ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

Spread the love

ইউক্রেনজুড়ে বিদ্যুৎ ও পরিবহন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ওয়াশিংটন ও কিয়েভের শান্তি আলোচনার মধ্যে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতভর এই হামলা চালানো হয়। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন মতে, আজ শনিবার (৬ ডিসেম্বর) ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, হামলায় ইউক্রেনের অন্তত আটটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় ব্ল্যাকআউট সৃষ্টি হয়েছে এবং তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে।

ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর দাবি, রাশিয়া রাতভর মোট ৬৫৩টি ড্রোন ও ৫১টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর মধ্যে ৫৮৫টি ড্রোন ও ৩০টি মিসাইল ভূপাতিত করা হয়েছে। ইউক্রেনের কমিউনিটি ও টেরিটরি ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় চেরনিহিভ, জাপোরিঝিয়া, লভিভ ও দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

এই মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ওডেসার বন্দর স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। অবকাঠামোর একটি অংশ অচল হয়ে পড়েছে। জেনারেটর থেকে ব্যাকআপ বিদ্যুৎ দিয়ে জরুরি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূল হলেই জরুরি মেরামত কাজ শুরু হয়েছে।

একটি ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের কাছাকাছি ফাস্তিভ শহরে একটি রেল স্টেশনে আঘাত হেনেছে। এতে স্টেশনের প্রধান ভবন, ডিপো ও রেলকোচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা। হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। হামলার পর কিয়েভ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চেরনিহিভ এলাকায় বেশ কয়েকটি ট্রেনের শিডিউল বাতিল করতে হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, হামলাগুলো ‘সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থহীন ছিল, এবং রুশ সেনারা সেটা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকতে পারে না’। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, রাশিয়া বারবার শান্তি প্রচেষ্টাকে অগ্রাহ্য করছে এবং জ্বালানি ব্যবস্থা ও রেলওয়েসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী বৃহৎ পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তারা বলছে, এ হামলায় কিনঝাল হাইপারসনিক মিসাইলসহ দূরপাল্লার আকাশ-স্থলভিত্তিক উচ্চ-নির্ভুলতার অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক শিল্প স্থাপনা, এসব স্থাপনার সহায়ক জ্বালানি অবকাঠামো এবং সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত বন্দর স্থাপনা।

চলতি সপ্তাহে ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু হয়। আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে জানান মার্কিন কর্মকর্তারা। আলোচনা আজ শনিবার (৬ ডিসেম্বর) তৃতীয়দিনে গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

মায়ামির অজ্ঞাত কোনও একটি স্থানে আয়োজিত ওই বৈঠকে ইউক্রেনের দিক থেকে যোগ দিয়েছেন রুস্তেম এবং সামরিক প্রধান জেনারেল আন্দ্রি হানতভ। অন্যদিকে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *