ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ ধুলিঝড়, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, গাছ উপড়ে পড়া এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।গত বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় রাজ্যজুড়ে একটি শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানে। মুহূর্তের মধ্যে ধুলায় কালো হয়ে যায় আকাশ। তীব্র বাতাসে বাড়ির ছাদ উড়ে যায়, বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে এবং গাছচাপায় বহু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বজ্রপাত, দেয়াল ধসে পড়া, উড়ে আসা ধ্বংসাবশেষ এবং বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন ঘটনায় ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি। এছাড়া গবাদিপশুর প্রাণহানি এবং ঘরবাড়ি, ফসল ও বিদ্যুৎব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে প্রয়াগরাজ জেলায়, সেখানে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর ভাদোহিতে ১৮ জন এবং মির্জাপুরে ১৫ জন মারা গেছেন। ফতেহপুর, উন্নাও, বদাউন ও প্রতাপগড় জেলাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, উপড়ে পড়া গাছে সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে, রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গ্রাম ও শহরের বহু স্থাপনা ধসে পড়েছে।সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটিতে বেরেলিতে এক ব্যক্তি টিনের চালাসহ বাতাসে উড়ে প্রায় ৫০ ফুট দূরে গিয়ে পড়েন। নানহে মিয়াঁ নামে ওই ব্যক্তি হাত ও পায়ে গুরুতর ভাঙার আঘাত পেয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ‘চারদিকে শুধু ধুলা আর ধুলা ছিল। হঠাৎ করেই কিছু দেখা যাচ্ছিল না।’ তারা জানান, প্রবল বাতাসে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেশির ভাগ মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাত, গাছ ভেঙে পড়া এবং দেয়াল বা টিনশেড ধসে পড়ার কারণে। সারা রাত উদ্ধারকারী দল ক্রেন ও চেইনসো ব্যবহার করে সড়ক ও রেলপথ পরিষ্কার করেছে।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ হতাহতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিপূরণ ও জরুরি আর্থিক সহায়তা বিতরণের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতি তিন ঘণ্টা পরপর ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন জমা দিতে জেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উত্তর ভারতের প্রাক-বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের ঝড় সাধারণ ঘটনা হলেও এবারের ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত করে তুলেছে।