স্টারমারের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে পদত্যাগ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং

Spread the love

ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং পদত্যাগ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর তার আর আস্থা নেই এবং এমন পরিস্থিতিতে সরকারের অংশ হয়ে থাকা ‘অসম্মানজনক ও নীতিবিরোধী’ হবে।গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল, স্ট্রিটিং আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন কি না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি সরকার থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় নামার কথা সরাসরি বলেননি।

লেবার পার্টির নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করতে হলে স্ট্রিটিংকে দলটির অন্তত এক-পঞ্চমাংশ সংসদ সদস্যের সমর্থন পেতে হবে। বর্তমানে সেই সংখ্যা ৮১ জন এমপি।গত সপ্তাহে ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচন এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর থেকেই স্টারমার ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছেন। প্রায় ৯০ জন লেবার আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন। বিদ্রোহ শুরুর পর স্ট্রিটিংই প্রথম মন্ত্রী যিনি সরকার ছেড়ে দিলেন।

পদত্যাগপত্রে স্ট্রিটিং বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলে দেশের ‘প্রতিটি প্রান্তে জাতীয়তাবাদীরা ক্ষমতায় এসেছে।’ তিনি মূলত ইংল্যান্ডে নাইজেল ফারাজের ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকে এবং স্কটিশ ও ওয়েলশ জাতীয়তাবাদী দলগুলোর সাফল্যের দিকে ইঙ্গিত করেন। তার মতে, এই পরিস্থিতি যুক্তরাজ্যের ঐক্যের জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

তিনি আরও বলেন, প্রগতিশীল ভোটাররা লেবার পার্টির প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন। স্টারমারের বিভিন্ন ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ‘দেশ এখন বুঝতে পারছে না আমরা আসলে কারা বা কীসের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছি।’ স্ট্রিটিং লেখেন, ‘যেখানে আমাদের দূরদৃষ্টি প্রয়োজন, সেখানে শূন্যতা। যেখানে দিকনির্দেশনা প্রয়োজন, সেখানে আছে ভাসমান অবস্থা।’

তার দাবি, স্টারমার ২০২৯ সালের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না, সেটি এখন স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা যেন ব্যক্তি বা ছোটখাটো গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বদলে ধারণা ও নীতির লড়াই হয়, সেটাই আমি চাই। এ লড়াই হতে হবে বিস্তৃত এবং সেখানে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থীদের অংশগ্রহণ থাকতে হবে।’

স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের বিষয়ে ডাউনিং স্ট্রিট তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পুরো সপ্তাহজুড়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বলে আসছে, স্টারমারের পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই।গত সোমবার (১১ মে) এক বক্তব্যে স্টারমার বলেন, নেতৃত্ব পরিবর্তন করলে দেশ আবার সেই ‘বিশৃঙ্খলায়’ ফিরে যাবে, যা কনজারভেটিভ পার্টির আমলে দেখা গিয়েছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার আগে কনজারভেটিভরা দুই বছরের মধ্যে দুজন নেতা পরিবর্তন করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *