মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত ব্যবসা থেকে গত বছরে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২০ কোটি ডলার) আয়ের অভিযোগ নিয়ে ওঠা বিতর্কের জবাব দিয়েছেন। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি একা নন, বরং তাঁর প্রশাসনের সময়ে শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বগতির কারণে ‘সবাই লাভ করছে’। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ব্যক্তিগত আর্থিক সিদ্ধান্তে তাঁর কোনও সরাসরি ভূমিকা নেই এবং তাঁর সমস্ত সম্পদের দেখভাল ব্লাইন্ড ট্রাস্টের মাধ্যমে করা হয়।
কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে প্রথমবার যাত্রা করার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন ট্রাম্প। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, রাষ্ট্রপতির পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি করার অভিযোগের বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া কী। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা জানেন কেন আমি লাভ করছি? কারণ শেয়ারবাজার বাড়ছে। সবাই লাভ করছে।’
তিনি আরও বলেন, তাঁর আর্থিক সম্পদের পরিচালনার জন্য আলাদা ফান্ড ম্যানেজার রয়েছেন এবং তিনি ব্যক্তিগত বিনিয়োগের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেন না। ট্রাম্পের কথায়, ‘আমি আমার ব্যক্তিগত অর্থ নিয়ে কোনওভাবে জড়িত নই। আমার অর্থ পরিচালনার জন্য আলাদা ফান্ড রয়েছে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগেই আমি প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছি। সেই অর্থই বিনিয়োগ করা হয়। আমি তাঁদের সঙ্গে এ নিয়ে কোনও আলোচনা করি না।’
তবে সমালোচকদের দাবি, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিপুল আয়ের বড় অংশই এসেছে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর শুরু হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত ব্যবসা থেকে। যদিও ট্রাম্প এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর সম্পদের মূল ভিত্তি বহু আগের ব্যবসায়িক সাফল্য। তিনি বলেন, “রাজনীতি বা ব্যবসা— কোন ক্ষেত্রে আমার ক্যারিয়ার ভালো ছিল জানি না, তবে ব্যবসায় আমার অসাধারণ সাফল্য ছিল। আমার কাছে অনেক অর্থ ও নগদ সম্পদ রয়েছে। তাই আমিও লাভ করছি।”
মঙ্গলবার মার্কিন সরকারের অফিস অব গভর্নমেন্ট এথিক্স প্রকাশিত আর্থিক নথিতে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিনান্সিয়াল নামে একটি ক্রিপ্টো স্টার্টআপের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিনান্সিয়ালের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক গত কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ, এই সংস্থার সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাকিস্তান সরকার একাধিক সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছে, যার লক্ষ্য সীমান্ত-পার ডিজিটাল পেমেন্ট, স্টেবলকয়েন এবং ব্লকচেইনভিত্তিক আর্থিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা। এই অংশীদারিত্বকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কারণ, ডোনাল্ড ট্রাম্প রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তাঁর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত একটি বেসরকারি ক্রিপ্টো সংস্থার বিদেশি সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্বার্থের সংঘাত তৈরি করতে পারে বলে সমালোচকদের অভিযোগ।

অন্যদিকে ট্রাম্প শিবিরের দাবি, সমস্ত আর্থিক লেনদেন আইন মেনেই হয়েছে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই তাঁর সম্পদ ব্লাইন্ড ট্রাস্টে রাখা হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতির পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত লাভবান হওয়ার অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে ট্রাম্প পরিবারের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং সেই সূত্রে বিপুল আয়ের বিষয়টি ইতিমধ্যেই মার্কিন রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে এই ইস্যু রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।