গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা ইসরায়েলি বাধার মুখে পড়েছে। বুধবার (১ অক্টোবর) গাজা উপকূল থেকে প্রায় ১৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পৌঁছালে বহরের অন্যতম জাহাজ ‘আলমা’-কে ঘিরে ধরে একটি ইসরায়েলি যুদ্ধজাহাজ।
ফ্লোটিল্লার কর্মীরা জানান, ইসরায়েলের জাহাজটি শুধু ‘আলমা’ নয়, বহরের আরও কয়েকটি জাহাজের দিকেও এগিয়ে আসে এবং বিপজ্জনক কৌশল ও ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করে। আলমার ক্যাপ্টেনকে পালিয়ে যাওয়ার পথ নিতে বাধ্য করা হয়। আরেকটি জাহাজ ‘সাইরিয়াস’-কেও প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ঘিরে রাখা হয়।
আলমার যাত্রী থিয়াগো আভিলা বলেন, ‘যুদ্ধজাহাজের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের কারণে আমাদের ক্যামেরা, লাইভ সম্প্রচার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ে।”
সাইরিয়াস জাহাজের যাত্রী লিসি প্রোয়েঙ্কা জানান, তাঁরাও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়েছিলেন।’
এদিকে বহরের বৃহত্তম জাহাজ ‘কনসায়েন্স’-এ যোগ দেয়া বাংলাদেশের খ্যাতিমান আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, ‘এই মাত্র সংবাদ আসল আলমার ওপর আক্রমণ হয়েছে। একটু পর ওখান থেকে সিগনালও থেমে গেল। এখন আমরা সবাই জড়ো হয়েছি, সবাই উদ্বিগ্ন। আলমা একদম শুরুর দিকে ছিল, আমরা শেষের দিকে। আলমার ওপর যা হচ্ছে, সেটা আমাদের ওপর হতে পারে।’

ইসরায়েল আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, তারা এই ফ্লোটিল্লাকে গাজার উপকূলে পৌঁছাতে দেবে না। এর আগেও চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে গাজামুখী ফ্লোটিল্লার দুইটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী।
গাজার দিকে যাত্রা করা সুমুদ ফ্লোটিলাতে রয়েছে ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌকা, যাতে যাত্রীসংখ্যা প্রায় ৫০০। যাত্রীদের মধ্যে আছেন ইতালির রাজনীতিবিদ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী এবং সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থানবার্গ।
বুধবার স্থানীয় সময় বিকালে ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের নৌবহর গাজার উপকূল থেকে ৯০ নটিক্যাল মাইলেরও কম দূরত্বে রয়েছে। বহরের আশা, বৃহস্পতিবার সকালেই তারা গাজার উপকূলরেখায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে।