গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের দুই বছর পূর্তি

Spread the love

আজ গাজায় ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসনের দুই বছর পূর্ণ হলো। এখন থেকে ঠিক দুই বছর আগে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ও তাদের আরও কয়েকটি মিত্র ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী কয়েক ইসরাইলের দশক ধরে চলা দখলদারিত্ব, নিপীড়ন ও গণহত্যার জবাবে ‘অপারেশন আল-আকসা স্টর্ম’ নামে আকস্মিক হামলা চালায়।

হামলায় ১,১৯৫ জন ইসরাইলি ও বিদেশি নাগরিক নিহত হন, যার মধ্যে ৮১৫ জন বেসামরিক নাগরিক। ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয় ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দিতে ইসরাইলকে বাধ্য করার লক্ষ্যে। 

জবাবে গাজায় আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে প্রতিশোধমূলক সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল যা এখনও অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং লক্ষাধিক আহত হয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েল তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৭ হাজার ১৬০ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু। ইসরাইলি বোমায় ভূমধ্যসাগরের পাড়ের এক সময়ের সাজানো-গোছানো এক চিলতে উপত্যকার পুরোটাই কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে।

ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, স্কুল এবং পানির ব্যবস্থা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ গৃহহীন গাজাবাসী এখন জনাকীর্ণ শিবির এবং খোলা জায়গায় তাঁবু টানিয়ে দিন কাটাচ্ছে যেখানে খাবার, পানি বা স্যানিটেশনের খুব কম সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যেই আবার নির্মম হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল।

ইসরাইলি আগ্রাসনের দুই বছর পরও শেষ হলো না নিরীহ ফিলিস্তিনিদের দুঃখ আর দুর্দশা। তারা এরই মধ্যে সব হারিয়েছেন। এবার এই সীমাহীন রক্তপাতের অবসান চান ফিলিস্তিনিরা। 

৩৬ বছর বয়সি হানান মোহাম্মদের কণ্ঠেও শোনা গেল সেই আকুতি। তিনি বলছিলেন, ‘এই যুদ্ধে আমরা সবকিছু হারিয়েছি, আমাদের ঘরবাড়ি, পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশী।

গাজার জাবালিয়ায় ইসরাইলি হামলায় ধ্বংস হয়ে যায় হানানের বাড়ি। বাস্তুচ্যুত হয়ে গত দুই বছর ধরে এক দুঃসহ জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। এখন তার একটাই চাওয়া, এই রক্তপাতের অবসান হোক। হানান বলছিলেন, ‘আমি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার জন্য এবং এই অবিরাম রক্তপাত ও মৃত্যু বন্ধ হওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’ 

এদিকে গত সোমবার মিশরের পর্যটন শহর শারম আল শেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা ‘শান্তি’ পরিকল্পনা নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও ইসরাইলের প্রতিনিধিরা।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টা করছেন। হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে প্রথমদিনের আলোচনা ‘ইতিবাচক পরিবেশে’ শেষ হয়েছে বলে মিশরীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে আল জাজিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *