ইউক্রেনে রাশিয়ার পক্ষে লড়ছে পাঁচ হাজার কিউবান ভাড়াটে সেনা। এমন দাবি করেছে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে পশ্চিমা যন্ত্রাংশে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হচ্ছে অভিযোগ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন হামলা পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (৬ অক্টোবর) রাশিয়ার নিঝনি নভগোরদ অঞ্চলের একটি বড় অস্ত্র কারখানায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের তেল টার্মিনাল ও সেনা অস্ত্রাগারেও। ইউক্রেন বলছে, এসব স্থাপনা রাশিয়ার যুদ্ধ সরবরাহের মূলভিত্তিগুলো এখন ধ্বংসস্তূপ।
রাশিয়ার গভীর অঞ্চলেও হামলার খবর দিয়েছে ইউক্রেন। তাদের স্পেশাল অপারেশন ফোর্স লেক ওয়ানেগায় থাকা ‘গ্রাদ’ নামের একটি মিসাইল করভেটে আঘাত হেনেছে। ফ্রন্টলাইন থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরের এই হামলা প্রমাণ করছে রাশিয়ার ভেতরেও নিরাপত্তা নেই।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ বাহিনীর সঙ্গে কিউবান যোদ্ধাদের অংশগ্রহণের প্রমাণ রয়েছে। এ ঘটনাকে সামনে রেখে ওয়াশিংটন তার মিত্র দেশগুলোকে জাতিসংঘে কিউবাকে বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছে।
পাল্টা হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনীও। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের প্রধান আন্দ্রি ইয়েরমাক টেলিগ্রামে এক পোস্টে বলেছেন, সুমি অঞ্চলে একটি প্রসূতী কেন্দ্রের ছাদে রাশিয়ার হামলায় আগুন ধরে যায়। ইয়েরমাক আরও বলেন, হামলার আগে শিশু, রোগী ও কর্মচারীদের বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।
ইউক্রেনের খারকিভে রাশিয়ার গোলাবর্ষণে দুইজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছে। অঞ্চলটির গভর্নর ওলেহ সিনিহুবভ টেলিগ্রামে এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন।

রুশ বাহিনী ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে ড্রোন হামলা, বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ শুরু করেছে, যার ফলে একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছে বলে আঞ্চলিক গভর্নর ওলেকসান্ডার প্রোকুদিন এক টেলিগ্রাম বার্তায় জানিয়েছেন। ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর ইভান ফেডোরভ।এর মধ্যে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, অন্তত পাঁচ হাজার কিউবান যোদ্ধা রাশিয়ার পক্ষে লড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ বাহিনীর সঙ্গে কিউবান যোদ্ধাদের অংশগ্রহণের প্রমাণ রয়েছে। এ ঘটনাকে সামনে রেখে ওয়াশিংটন তার মিত্র দেশগুলোকে জাতিসংঘে কিউবাকে বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে রুশ হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রে বিদেশি যন্ত্রাংশ পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তার দাবি, এসব অস্ত্রের এক লাখের বেশি অংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি থেকে। এসব সরবরাহ রোধে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রস্তুত করছে কিয়েভ।