হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ, আকাশপথে স্থবিরতা ইরানে স্বাস্থ্যখাতে চাপ বাড়িয়েছে। ক্যানসারের ওষুধ থেকে শুরু করে ব্যথানাশক, জরুরি ওষুধ সরবরাহে দেখা দিয়েছে ঘাটতি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এ সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ এবং জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ইরানের আমদানি ব্যবস্থাকে কার্যত ধাক্কা দিয়েছে। আকাশপথে কার্গো ফ্লাইট বন্ধ থাকায় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এতে, রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের হাসপাতালে জরুরি ওষুধের প্রবাহ কমে এসেছে।ইবনে সিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, কেমোথেরাপি ড্রাগ, ব্যথানাশক ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের ঘাটতি চোখে পড়ছে। পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনে বিঘ্ন এবং আমদানি জটিলতা এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। অনেকে বলছেন, যুদ্ধ বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ওষুধের ঘাটতি হওয়া স্বাভাবিক। কিছু কেমোথেরাপির ওষুধের ঘাটতিও এরইমধ্যে দেখা দিয়েছে। এছাড়া পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন বন্ধ থাকায় স্যালাইন ও ওষুধের প্যাকেজিং সামগ্রীতেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
যদিও এখন পর্যন্ত ইরান সরকার বড় ধরনের ওষুধ সংকট ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে, তবে চিকিৎসকদের মতে পরিস্থিতি নাজুক। দেশের মজুদ আর কতদিন চাহিদা মেটাতে পারবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটছে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও, তা আনুষ্ঠানিক সমঝোতার অংশ কি না স্পষ্ট নয়। ইরানের প্রস্তাব নিয়ে শান্তি আলোচনার কথা বলা হলেও, উত্তেজনা এখনো কাটেনি। এতে, সরবরাহ সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।