যুদ্ধ বন্ধের শর্তে কেন একমত হতে পারছে না ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

Spread the love

শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা হলেও যুদ্ধ বন্ধের শর্তে একমত হতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দোলাচলের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ দুই পক্ষের অবিশ্বাস। এক্ষেত্রে, কূটনীতির পথে হাঁটলেও সিদ্ধান্ত ধীরগতিতে আসবে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তির প্রক্রিয়া আবারও থমকে গেছে। নিজেদের শর্ত থেকে একচুলও নড়তে নারাজ দুই দেশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প ও ইরানের মধ্যে বিশ্বাসের অভাবই শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই অবিশ্বাসের কেন্দ্রেই রয়েছে ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া ওই চুক্তি আন্তর্জাতিকভাবে সফল হিসেবে বিবেচিত হলেও, ২০১৮ সালে সেটিকে বিপর্যয় আখ্যা দিয়ে বাতিল করেন ট্রাম্প। এতে তেহরানের কাছে ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।পরবর্তী সময়ে জো বাইডেন প্রশাসন চুক্তি পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা করলেও, ইরান স্পষ্ট নিশ্চয়তা চায় ভবিষ্যতে আবার যেন তা বাতিল না হয়। কিন্তু মার্কিন রাজনৈতিক কাঠামো এমন নিশ্চয়তা দিতে অক্ষম। ফলে আলোচনার টেবিলে শুরু থেকেই সন্দেহের ছায়া থেকে যায়।

অবিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে। ইরানের অভিযোগ, কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালীন সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। যা আলোচনার আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। 

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অস্পষ্টতা ও গোপনীয়তা বজায় রেখেছে, যা আস্থার সংকটকে আরও বাড়িয়েছে।

এই দ্বিমুখী অবিশ্বাসের মধ্যে চুক্তির কাঠামোও হয়ে উঠছে জটিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শিথিল বা ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হতে পারে। যা তাদের জন্য অপরিবর্তনীয় ছাড়।

বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো শর্তে রাজি হতে হবে। যেটি বেশ পরিবর্তনীয়। এক্ষেত্রে, চুক্তি থেকে পাওয়া সুবিধার ভার যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই ঝুঁকছে।

এরপরও ট্রাম্প ও ইরান, দুই পক্ষই কূটনীতিকে আরও একবার সুযোগ দিতে আগ্রহী বলে মনে করা হচ্ছে। তবে দুই দেশের একটি চুক্তির রূপরেখা এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে কোনো পক্ষই বাড়তি সুবিধা নিয়ে সরে পড়ার সুযোগ না পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *