মঙ্গলবার ছত্তিশগড়ের শক্তি জেলায় একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে একটি বয়লার বিস্ফোরণে ৯ জন শ্রমিক নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। প্রাথমিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকেলে সিংহিতারাই গ্রামের বেদান্ত লিমিটেডের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি বয়লার টিউবে বিস্ফোরণ ঘটে বলে শক্তি এলাকার পুলিশ সুপার প্রফুল ঠাকুর জানিয়েছেন।
‘নয়জন শ্রমিক মারা গেছে এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়, অন্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আহতরা পার্শ্ববর্তী রায়গড় জেলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন’ বলে জানান তিনি। একটি বিবৃতিতে প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে এই ঘটনাটি ঘটেছে সিঙিতারাই প্ল্যান্টের একটি বয়লার ইউনিটে, যার মধ্যে তার সাব-কন্ট্রাক্টর, এনটিপিসি জিই পাওয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের কর্মীরা জড়িত ছিলেন, যা ইউনিটটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা বিস্তারিত জানার প্রক্রিয়াধীন আছি এবং আমাদের অংশীদার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করা হয়েছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোত্তম সম্ভাব্য চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করাই তাদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের দল ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়। ঘটনাস্থলে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ বলে জানিয়েছেন। সাই বলেছিলেন যে তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছত্তিশগড় কংগ্রেস সভাপতি দীপক বেইজ বলেন, প্ল্যান্ট ম্যানেজমেন্ট ও প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ক্ষমতাসীন দলকে লক্ষ্য করে বেইজ বলেন, ‘এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড। বিজেপির অপশাসনের অধীনে, শিল্প দুর্ঘটনায় মৃত্যু থামছে না।’ তিনি নিহতদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য, গুজরাটের কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের কয়েকদিন পরে গুজরাটের বনসকান্থা জেলার একটি কারখানার গুদামে বয়লার বিস্ফোরণে আগুন লেগে ২১ জন নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হওয়ার কয়েক দিন পরে এদিন ছত্তিশগড়ের ঘটনাটি ঘটে।