জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেওয়া ম্যাথু ভ্যানডাইককে তিহাড় থেকে দেশে ফেরতে তৎপরতা আমেরিকার

Spread the love

US Mercenary Mathew Van Dyke Update: ভারতের মাটিতে বসে ভারতেরই বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। আর সেই মামলায় অভিযুক্ত এক মার্কিন নাগরিককে দেশে ফেরাতে এবার সক্রিয় আমেরিকা। নাম ম্যাথু ভ্যানডাইক। অভিযোগ গুরুতর। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ব্যবহার করে আলাদা ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। গত ১২ মার্চ দমদম বিমানবন্দর থেকে ম্যাথুকে গ্রেপ্তার করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। তারপর থেকেই তিহাড় জেলে বন্দি তিনি।

এখন অবশ্য ম্যাথুকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। জেলে নাকি ওটস খেয়েই দিন কাটছে তাঁর। জেলের খাবারে বেশি তেল ও মশলা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। তাই আদালতের কাছে নিজের পছন্দের খাবারের তালিকাও দিয়েছিলেন। সেই তালিকায় ছিল রেড মিট থেকে পাস্তা পর্যন্ত। কিন্তু খাবারের অভিযোগের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে তাঁকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা।

ম্যাথুর পরিবার ইতিমধ্যেই মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাঁর এক্স হ্যান্ডেল থেকে সোমবার একটি পোস্টও করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, তিহাড় জেলে ম্যাথুকে ন্যূনতম অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে ম্যাথুকে। এমনকি তাঁকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ভারতের জেলে বন্দি এক মার্কিন নাগরিককে নিয়ে এবার সরাসরি ওয়াশিংটনের কাছে দরবার করা হয়েছে।

এই ঘটনায় আমেরিকার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ভারতের মাটিতে যদি কারও বিরুদ্ধে এত গুরুতর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তার বিচার ভারতের আইনেই হওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠতেই তাকে দেশে ফেরানোর জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা কেন? এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে। সূত্রের দাবি, গত মে মাসে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর ম্যাথুর পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি এবং মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জানান।

এনআইএর অভিযোগ আরও বিস্ফোরক। তদন্তকারীদের দাবি, ম্যাথু তথাকথিত মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’-এর সঙ্গে যুক্ত। উত্তর-পূর্ব ভারতে একটি ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ তৈরির ষড়যন্ত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ। গত ডিসেম্বর মাসে ম্যাথু-সহ সাত জন টুরিস্ট ভিসায় ভারতে এসেছিলেন বলেও জানা যাচ্ছে। অসম, মিজোরাম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক এলাকায় তাঁদের যাতায়াত ছিল বলে তদন্ত সূত্রের দাবি। শুধু ঘোরাঘুরি নয়। বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

এখানেই প্রশ্ন—ভারতে এসে ভারতের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগ, আর পরে তাঁকেই দেশে ফেরাতে আমেরিকার কূটনৈতিক উদ্যোগ! তাহলে কি নিজের নাগরিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের থেকেও নাগরিককে বাঁচানোই বড় হয়ে উঠছে ওয়াশিংটনের কাছে? তবে মনে রাখতে হবে, ম্যাথুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও বিচারাধীন। আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলি অভিযোগ হিসেবেই থাকবে। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট। ম্যাথু ভ্যানডাইককে ঘিরে মামলা এখন আর শুধু তিহাড় জেলের চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে ভারত-আমেরিকা কূটনীতি, উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা এবং দেশের অখণ্ডতার প্রশ্নও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *