জার্মানির সেনাবাহিনী শক্তিশালী করতে পার্লামেন্টে উত্থাপিত নতুন সামরিক সেবা বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভে নেমেছেন দেশটির হাজার হাজার নাগরিক। গত শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানী বার্লিনের রাস্তায় অন্তত তিন হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।কয়েকটি সপ্তাহের আলোচনা ও বিতর্কের পর শুক্রবার বিতর্কিত বিলটি পাস করে জার্মানির সংসদের নিম্নকক্ষ বুন্দেসট্যাগ। এতে জার্মানজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধ যেকোনো সময় সীমানা পেরিয়ে ইউরোপের দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কার মধ্যে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে ন্যাটো।
তারই ধারাবাহিকতায় জার্মানিও সামরিক বাজেট বৃদ্ধি ও সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার দিকে এগোচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই সামরিক সেবা বিল পাস করা হলো। তবে শান্তিপ্রিয় জার্মান নাগরিকেরা এই বিলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিল পাসের পরই তাই তারা প্রতিবাদে ফেটে পড়ে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, নতুন সামরিক চাকরি আইন বাতিলের দাবিতে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আয়োজিত এ বিক্ষোভ বার্লিন, হামবুর্গ, বখুম, বিলেফেল্ড, মুনস্টার, কোলোন, ডুসেলডর্ফ ও স্টুটগার্টসহ জার্মানির ৯০টিরও বেশি শহরে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়।রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইউরোপে ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই চলতি বছরের জুন মাসে ন্যাটোর সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবে ‘আয়রনক্ল্যাড’ অঙ্গীকার করে ন্যাটো জোটের নেতারা। প্রতিশ্রুতি আসে, ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিটি দেশ তাদের জাতীয় জিডিপির সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় করবে।
জোটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক উত্তেজনা, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ, সাইবার হুমকি ও ইউরোপের নিরাপত্তা পরিবেশের দ্রুত পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে।

ওই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে জার্মানির নতুন আইনে ২০৩৫ সালের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা এক লাখ ৮৩ হাজার থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ ৬০ হাজারে করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি রিজার্ভ বাহিনীতে এই সংখ্যা ২ লাখ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
বিলে দুটি নিয়োগ পদ্ধতি রাখা হয়েছে। আকর্ষণীয় সুবিধাসহ স্বেচ্ছাসেবী সামরিক সেবা, এবং প্রয়োজনে সংসদের ভোটে বাধ্যতামূলক নিয়োগ (কনস্ক্রিপশন) সক্রিয় করার ক্ষমতা। বিল অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারির পর জন্ম নেয়া সব পুরুষকে মেডিকেল মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।১৮ বছর পূর্ণ করা পুরুষ ও নারী উভয়েই সামরিক সেবায় অংশ নেওয়ার ইচ্ছা জানাতে পারবে। তবে পুরুষদের জন্য জবাব দেওয়া বাধ্যতামূলক, নারীদের জন্য নয়। বিলটি এখন জার্মানির উচ্চকক্ষ বুন্দেসরাটে পাঠানো হবে, যেখানে চলতি মাসের শেষ দিকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। আইনটি কার্যকর হলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।