বিশ্বজুড়ে ভবিষ্যৎবাণী ও রহস্যময় গণনার জগতে ‘জীবন্ত নোস্ট্রাদামুস’ (Living Nostradamus) নামে পরিচিত ব্রাজিলের ৩৬ বছর বয়সী ভবিষ্যৎবক্তা অ্যাথোস সালোমে (Athos Salomé)। বিগত কয়েক বছরে বিশ্বরাজনীতি, প্রযুক্তি ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে তাঁর করা বেশ কিছু খবরের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি প্রমাণিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে তিনি এখন আলোচনার শীর্ষে। অতি সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের জন্য তাঁর করা দুটি প্রধান ভবিষ্যৎবাণী ইতিমধ্যেই হুবহু মিলে গেছে। একই সঙ্গে এই সাফল্য তুলে ধরে তিনি ২০২৬ সালের শেষার্ধ এবং তার পরবর্তী সময়ের জন্য এক নতুন ও ভয়াবহ আন্তর্জাতিক সংঘাতের চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অ্যাথোস সালোমের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি কীভাবে বিশ্বকে সতর্ক করেছেন এবং কোন দুটি ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যাওয়ার দাবি করেছেন, জানলে চমকে যাবেন।
ফ্রান্সের ষোড়শ শতাব্দীর বিখ্যাত ভবিষ্যৎবক্তা মিচেল দে নোস্ট্রাদামুসের শৈলীর সাথে মিল রেখে অ্যাথোস সালোমে বহু আন্তর্জাতিক ঘটনার আগাম ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিককালের বেশ কিছু বড় ঘটনা তাঁর করা গণনার সাথে হুবহু মিলে গেছে।
যে দুটি ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হওয়ার দাবি সালোমের
১. সাইবার যুদ্ধ ও বিমান চলাচল বিপর্যয়: অ্যাথোস সালোমে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ২০২৬ সালে বিশ্বের বিমান চলাচল ব্যবস্থা এবং বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ মাধ্যম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কিংবা বড় ধরণের ইলেকট্রনিক ও সাইবার হামলার মুখে পড়বে। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে একাধিক এয়ারলাইন্সের আইটি নেটওয়ার্ক অচল হয়ে যাওয়া এবং ব্যাপক বিমান বাতিল ও পাওয়ার আউটেজের ঘটনাকে তিনি তাঁর মিলে যাওয়া প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী বলে দাবি করেছেন।
২. গোপন স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও মহাকাশ প্রতিযোগিতা: সালোমের দ্বিতীয় ভবিষ্যদ্বাণী ছিল মহাকাশ ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তিকে ঘিরে বিশ্বশক্তির গোপন লড়াই। বিভিন্ন শক্তিশালী দেশ যেভাবে সম্প্রতি সামরিক কাজে মহাকাশ প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট সংকেত বিকল করার মতো গোপন অস্ত্র পরীক্ষা চালনা করছে, সালোমে এটিকে তাঁর দ্বিতীয় মিলে যাওয়া ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
আগামী দিনের জন্য নতুন আন্তর্জাতিক সংঘাতের সতর্কবার্তা
নিজের আগের দুটি গণনা সত্য প্রমাণিত হওয়ার পর সালোমে এখন মানবজাতিকে এক নতুন বৈশ্বিক বিপর্যয় সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষার্ধে পৌঁছানোর সাথে সাথে বিশ্বের প্রধান দুই সামরিক বা অর্থনৈতিক ব্লকের মধ্যে একটি নতুন মাত্রার সংঘাত ও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
এই নতুন লড়াই কেবল প্রচলিত যুদ্ধাস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি মূলত পরিচালিত হবে ডিজিটাল প্রযুক্তি, আধুনিক বায়োলজিক্যাল সায়েন্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে। প্রযুক্তি এবং মানুষের সামরিক মানসিকতার এই বিপজ্জনক সংমিশ্রণ বিশ্ব অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে এক অভূতপূর্ব সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
