মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বদলে ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেতাকে পুরস্কার দেয়ায় নোবেল কমিটির কঠোর সমালোচনা করেছে হোয়াইট হাউস। বলেছে, নোবেল কমিটি শান্তির ওপর রাজনীতিকে প্রাধান্য দিয়েছে।আজ শুক্রবার (১০ অক্টোবর) চলতি বছরের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। পুরস্কার পেয়েছেন ভেনিজুয়েলার গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো। দেশটির গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তিনি এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছিলেন ট্রাম্প। বারবার তাকে বলতে শোনা গেছে, এবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য তিনিই সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। কারণ হিসেবে তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর গত কয়েক মাসে তিনি সাতটা যুদ্ধ থামিয়েছেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটি পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রু’ দেশ ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেতা। যা ট্রাম্প প্রশাসনকে ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে বলে মনে হচ্ছে। এমনকি ট্রাম্প পুরস্কার না পাওয়ায় সেই ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ্যে এলো।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টিভেন চিউং এক এক্স পোস্টে বলেছেন, ‘নোবেল কমিটি প্রমাণ করেছে যে, তারা শান্তির চেয়ে রাজনীতিকে বেশি প্রাধান্য দেয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শান্তি চুক্তি, যুদ্ধের অবসান এবং জীবন বাঁচানোর কাজ চালিয়ে যাবেন। তার মধ্যে একজন মানবতাবাদী হৃদয় রয়েছে এবং তার মতো কেউ কখনও শুধু ইচ্ছাশক্তির জোরে পাহাড় সরাতে পারবে না (সমস্যা সমাধান করতে পারবে না।’

ট্রাম্পের নোবেল না পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছে নোবেল কমিটি। মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল জেতার পর এক সাংবাদিক নোবেল কমিটির কাছে ট্রাম্পের ব্যাপারে জানতে চান, ট্রাম্পকে নোবেল দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টসহ বিশ্বের অন্যান্য যেসব জায়গা থেকে চাপ এসেছিল, সেই চাপ তাদের পুরস্কার ঘোষণায় কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না।
জবাবে নোবেল শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান জোর্গেন ওয়াটনে ফ্রায়ডেন্স বলেন, ‘নোবেল শান্তি পুরস্কারের দীর্ঘ ইতিহাসে এই কমিটি অনেক প্রচারণা ও মিডিয়া উত্তেজনা দেখেছে এবং প্রতি বছর হাজার হাজার চিঠি পায়।’ তিনি বলেন, আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র কাজ (পুরস্কারপ্রাপ্তদের) এবং আলফ্রেড নোবেলের করা উইলের ওপর ভিত্তি করে নিই।