ডিভিসি-র ছাড়া জল এবং টানা ভারী বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। পূর্ব বর্ধমানসহ একাধিক জেলায় কাঁচা ও আধাপাকা বাড়ি ভেঙে যাওয়া পরিবারদের নতুন করে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে অর্থ বরাদ্দ করল নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই ঘোষণা করেছিলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সরকারি উদ্যোগে পাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি মতোই বরাদ্দ হল অর্থ।
পূর্ব বর্ধমান জেলার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১ কোটি ৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। এখানে মোট ৯৮৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত বলে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৩টি কাঁচা বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। আর ৫৮০টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই তা নবান্নে পাঠিয়েছে। এখন উপভোক্তারা বাংলার বাড়ি প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে বাড়ি নির্মাণের সুযোগ পাবেন। জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলাপরিষদ) শুভলক্ষ্মী বসু জানিয়েছেন, উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছনোর পর তাঁরা দ্রুত বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করবেন। তবে প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই অর্থ কোনওভাবেই অন্য খাতে ব্যবহার করা যাবে না, শুধুমাত্র বাড়ি নির্মাণেই তা ব্যয় করতে হবে।
ইতিমধ্যে বিভিন্ন গ্রামের উপভোক্তাদের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে সরকারি কর্মীরা পরিদর্শনও শুরু করেছেন। যারা টাকা পাওয়ার পরও বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনে অর্থ ফেরত নেওয়ার উদ্যোগও থাকবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। অভিযোগ, গত কয়েক মাসে ডিভিসির অতিরিক্ত জলছাড়া এবং অস্বাভাবিক বর্ষণের ফলে চাষের জমি থেকে ঘরবাড়ি সবকিছুই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, উত্তরবঙ্গেও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বহু বাড়ি ভেঙে পড়েছে। সেইসব জেলার জন্যও আলাদা অর্থবরাদ্দের প্রস্তুতি চলছে। কৃষকদের ক্ষতি কমাতে ইতিমধ্যেই কৃষি দফতর বিনামূল্যে ধানের চারা বিতরণ করেছে। আর এবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিচ্ছে রাজ্য সরকার।পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহারের বক্তব্য স্পষ্ট, মুখ্যমন্ত্রী যে কথা দেন, তা রাখেন। কেন্দ্র আবাস প্রকল্পে টাকা বন্ধ করলেও, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্য নিজস্ব অর্থে বাড়ি গড়ে দিচ্ছে। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পে পূর্ব বর্ধমানেই ইতিমধ্যে ৭০ হাজারের বেশি উপভোক্তা আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন।
