শেষে তুমি নাপিত হবে? হ্যাঁ এই কথাটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল অদিতিদেবীর জীবনে।কথায় আছে কোনও কাজই ছোট হয় না।সে রাজমিস্ত্রী হোক কিংবা গ্যারেজের মিস্ত্রি, খেটে খাওয়া প্রত্যেকটি মানুষের সম্মান রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই অদিতিদেবীর সাজা গোজা, মেকাপ খুব পছন্দের ছিল।তাঁর সময়ে সানন্দা বলে একটি ম্যাগাজিন বের হত,সেই ম্যাগাজিনে থাকা বিউটি টিপস সম্পর্কিত নানা প্রতিবেদন অদিতিদেবী পড়তেন।আর যখন সে বড় হয়ে,উচ্চ শিক্ষিত হল তখন তাঁর ইচ্ছে পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়ালেন তাঁর বাবা।অদিতিদেবী ব্যাঙ্কে উচ্চ পদে চাকরি পেয়েছিলেন,কিন্তু সেই চাকরিতে যুক্ত হননি।তিনি পরিষ্কার বাবাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন,তিনি একটি পার্লার খুলবেন,যেখানে চুল,ত্বক সম্পর্কিত সমস্ত ধরনের কাজ করবেন।এরপরই বেঁকে বসেন বাবা,তিনি বলেন,উচ্চ শিক্ষিত হয়ে এখন তুমি নাপিত হবে?এই কথাটা মনে দাগ কেটে যায় অদিতিদেবীর।তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর মায়ের সহায়তায় লেকটাউনের বুকে আহানাস ক্লিনিক নামে একটি বিউটি পার্লার খোলেন।নতুন নয় তাঁর যাত্রা,দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে লেকটাউনে ব্যবসা করে চলেছেন অদিতি।প্রথমে পার্লার খুললেও আজ তিনি সেই পার্লারকে ক্লিনিকে পরিণত করেন।তাঁর ক্লিনিকে গায়ের রং কালো থেকে ফর্সা,মুখে মেচেতার দাগ,ট্যান এছাড়াও ত্বকের নানা ধরনের সমস্যা সমাধান করেন।একা মহিলা হয়ে দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে ব্যবসা করে চলেছেন, তাঁর ক্লিনিকে কাজ করেন বহু মহিলা,পুরুষ। এছাড়াও অদিতিদেবী ট্যারট কার্ড রিড করতেও পারেন।বহু বছর ধরে তিনি এই পেশাতেও যুক্ত। তাঁর কাছে আসলে আপনার অতীত আগে যাচাই করে তারপর বর্তমান, ভবিষ্যৎ জানবেন।তিনি বাস্তু সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান থেকে নানা ধরনের সমস্যা থেকে মুক্ত করতে পারেন।তাঁর সাথে অবশ্যই আগে ফোনে কথা বলে তারপর আহানাসে এসে সরাসরি সমস্যার কথা জানাতে পারেন।
