দখল করা এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য ‘ইসরাইলি’ লেবেলে যাচ্ছে ইউরোপে

Spread the love

জবর দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং সিরিয়ার গোলান মালভূমিতে অবস্থিত অবৈধ ইসরাইলি বসতিগুলোতে উৎপাদিত কৃষিপণ্য মিথ্যা ‘ইসরাইলি’ লেবেল ব্যবহার করে ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশ করছে। নতুন এক তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ইকো লিটিগেশন সেন্টারের করা ‘ইমপোর্টিং অকুপেশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গত বুধবার (১০ জুন) প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত পণ্যকে ইইউ নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে ‘ইসরাইল থেকে আসা’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী ১৯৬৭ সালের পর দখলকৃত অঞ্চলের পণ্য আলাদাভাবে চিহ্নিত করার কথা।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব পণ্যের লেবেলে ‘ওয়েস্ট ব্যাংক’ বা ‘গোলান হাইটস’ লেখা থাকা উচিত, সেগুলো অনেক সময় শুধু ‘মেইড ইন ইসরাইল’ বলে বিক্রি হচ্ছে। এতে ভোক্তাদের ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
 

গবেষকরা ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি রফতানি রেকর্ড বিশ্লেষণ করেছেন, যেখানে ৬ হাজার ৮২৭টি কৃষিপণ্য চালান অন্তর্ভুক্ত ছিল।
 
তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে পাঠানো কৃষিপণ্যের মধ্যে ১৭ শতাংশের বেশি এসেছে ইসরাইলি বসতি থেকে। আর শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব পণ্যের আসল উৎস আড়াল করতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হয়। যেমন—উৎপাদনস্থলকে কৌশলে ইসরাইলের ভেতরের এলাকা হিসেবে দেখানো, ইসরাইলের ভেতরের ঠিকানা ব্যবহার করা, যা আসল উৎপাদনস্থলের সঙ্গে মেলে না এবং অবৈধ বসতি অঞ্চলের পণ্যকে ইসরাইলের মূল ভূখণ্ডের পণ্যের সঙ্গে মিশিয়ে রফতানি করা।
 
গবেষকদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ভুল নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থা। এতে বসতি এলাকার পণ্য ‘সরকারি কাগজপত্রে’ ইসরাইলের ভেতরের পণ্য হিসেবে দেখিয়ে দেওয়া হয়। তারা আরও বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতির দুর্বলতার কারণে এই পণ্যগুলো নিয়মিতভাবেই ইউরোপের বাজারে ঢুকে পড়ছে।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের ভুল লেবেলিং ইউরোপীয় আইন, বাণিজ্য নীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জৈব পণ্যের সার্টিফিকেশন ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। এছাড়া বলা হয়েছে, বসতি অঞ্চলের কৃষি কার্যক্রম এসব বসতিকে টিকিয়ে রাখতে ভূমি ব্যবহার ও সম্পদ আহরণের মাধ্যমে বড় ভূমিকা রাখছে।গবেষকরা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ২০২৪ সালের একটি পরামর্শমূলক মতামতের কথাও উল্লেখ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছিল—রাষ্ট্রগুলোকে ইসরাইল এবং অধিকৃত অঞ্চল আলাদা করে চিহ্নিত করতে হবে এবং এমন অর্থনৈতিক কার্যক্রম এড়িয়ে চলতে হবে যা দখলদারিত্বকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *