৫ কোটির হেরোইন-সহ ধৃত মণিপুর থেকে আসা মহম্মদ জায়েদ

Spread the love

উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে কলকাতায় মাদক পাচারের বড় চক্রের হদিস পেল নারকোটিক কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কলকাতা স্টেশনে অভিযান চালিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের কুখ্যাত মাদক পাচারকারী মহম্মদ জায়েদকে গ্রেফতার করেছেন গোয়েন্দারা। ধৃতের ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় এক কিলোগ্রাম উচ্চমানের হেরোইন, যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য আনুমানিক পাঁচ কোটি টাকা। তদন্তকারীদের দাবি, এই পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ‘নারকো টেররিজম’-এর যোগ, যার মাধ্যমে মাদকের অর্থ জঙ্গি সংগঠনগুলির তহবিলে পৌঁছয়।

 

এনসিবি সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মহম্মদ জায়েদ মণিপুরের ইম্ফলের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরেই সে উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি সক্রিয় মাদক পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত। তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে মায়ানমারের মাদক কারবারিদের সঙ্গে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত দিয়ে মাদক ভারতে এনে তা কলকাতাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম মূল দায়িত্ব ছিল জায়েদের উপর।

গোয়েন্দাদের দাবি, এর আগেও অন্তত তিনবার বিপুল পরিমাণ হেরোইন মণিপুর থেকে পশ্চিমবঙ্গে পাচার করেছে অভিযুক্ত। এবার চতুর্থবারের মতো বিশেষ কৌশলে ব্যাগভর্তি জামাকাপড়ের মধ্যে হেরোইনের প্যাকেট লুকিয়ে ইম্ফল থেকে রওনা দেয় সে। একাধিক বাস বদল করে প্রথমে উত্তরবঙ্গে পৌঁছয়। সেখান থেকে ট্রেনে চেপে রাতে কলকাতা স্টেশনে আসে। আগে থেকেই তার গতিবিধির উপর নজর রাখছিল এনসিবি। ট্রেন থেকে নেমে স্টেশন চত্বর ছাড়ার চেষ্টা করতেই তাকে আটক করেন গোয়েন্দারা।

ধৃতের ব্যাগ তল্লাশি করে জামাকাপড়ের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় সাদা রঙের গুঁড়ো জাতীয় পদার্থ। প্রাথমিক পরীক্ষার পর এনসিবির আধিকারিকরা নিশ্চিত হন, সেটি উচ্চমানের হেরোইন। উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ প্রায় এক কিলোগ্রাম এবং আন্তর্জাতিক বাজারে যার মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

তদন্তে উঠে এসেছে, এই মাদক প্রথমে মায়ানমারের সীমান্ত পেরিয়ে বেহিয়াং ও চূড়াচাঁদপুর হয়ে মণিপুরের ইম্ফলে পৌঁছেছিল। সেখান থেকে ডিমাপুর, কাছাড়-শিলচর এবং গুয়াহাটি হয়ে উত্তরবঙ্গের রুট ব্যবহার করে কলকাতায় আনা হয়। এরপর কলকাতার স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শহরে তা সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল বলে সন্দেহ গোয়েন্দাদের।

এনসিবির তদন্তকারীদের মতে, এই চক্র শুধুমাত্র মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত নয়, এর পিছনে রয়েছে ‘নারকো টেররিজম’-এর বড় যোগ। উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু জঙ্গি সংগঠন মাদক বিক্রির কোটি কোটি টাকার অর্থ ব্যবহার করে অত্যাধুনিক অস্ত্র কেনে এবং নিজেদের জঙ্গি কার্যকলাপ চালানোর জন্য তহবিল গড়ে তোলে বলে গোয়েন্দাদের দাবি। সেই কারণেই এই মামলাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

বর্তমানে ধৃত মহম্মদ জায়েদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কলকাতার মাদকচক্রের স্থানীয় এজেন্ট, আর্থিক লেনদেনের নেটওয়ার্ক এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের মূল পাচারচক্রের অন্যান্য সদস্যদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের আশা, এই গ্রেফতারির সূত্র ধরে একটি আন্তঃরাজ্য তথা আন্তর্জাতিক মাদক পাচারচক্রের বড় অংশের পর্দাফাঁস হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *