Bangladesh Update: ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব দুই দেশের নানা ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে। বিদ্যুৎ ক্ষেত্রেও সেই চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ভারত থেকে তুলনামূলক কম দামে বিদ্যুৎ পাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ চিনের একটি সংস্থার কাছ থেকে অনেক বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে রাজি হয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। জানা গিয়েছে, চিনা সংস্থার একটি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ তৈরির প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ কিনতে প্রতি ইউনিটে ২৫ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অথচ ২০২৫-২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, ভারত থেকে বিদ্যুৎ কিনতে প্রতি ইউনিটে প্রায় ১১ টাকা খরচ হত। অর্থাৎ চিনা প্রকল্পের বিদ্যুতের দাম ভারতের তুলনায় প্রায় ১২৭ শতাংশ বেশি।
এই সিদ্ধান্ত এমন সময় নেওয়া হয়েছে, যখন বাংলাদেশ নিজেই ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও কোথাও ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় নামছেন মানুষ।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের বড় ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহও কমে গিয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য প্রতিদিন ১০০ কোটিরও বেশি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। সেখানে সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ৭০ কোটি ঘনফুটে। গ্যাসের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
চিনা প্রকল্পটির অবস্থান ঢাকার আমিনবাজারে। সেখানে জমা হওয়া বর্জ্য ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। প্রকল্পটির ক্ষমতা ৪২ মেগাওয়াট। ঢাকার উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অধীনে এই প্রকল্প পরিচালনা করছে একটি চিনা সংস্থা।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই বেশি দামের সিদ্ধান্তের যুক্তিও দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও সমবায় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, ঢাকার বর্জ্য এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একসঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। পাশাপাশি জৈব সার তৈরি হবে। পরিবেশগত সুবিধা এবং কার্বন ক্রেডিট থেকেও অতিরিক্ত খরচের কিছুটা ক্ষতিপূরণ হতে পারে বলে দাবি সরকারের।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটি ২০২৮ সালের অগস্ট বা সেপ্টেম্বরে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে পারে। তবে এই প্রকল্পটি সরাসরি ভারতীয় বিদ্যুতের বিকল্প নয়। বাংলাদেশ বর্তমানে বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে ভারত থেকে প্রায় ২,৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে। ২০২৫ অর্থবর্ষে বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ আমদানির প্রায় ১৫.৮ শতাংশ এসেছে ভারত থেকে। সেখানে চিনা প্রকল্পের ক্ষমতা মাত্র ৪২ মেগাওয়াট।
ফলে পরিমাণের দিক থেকে চিনা প্রকল্প ভারতের বিদ্যুৎ সরবরাহের ধারেকাছেও নেই। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। ভারত থেকে কম দামে বিদ্যুৎ নেওয়ার ক্ষেত্রে সামান্য অতিরিক্ত চার্জ (০.০০৫ টাকা) নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ঢাকা। পরে ভারতের প্রস্তাবিত চার্জ আরও কমানো হয়। অথচ একই সময়ে চিনা প্রকল্পের জন্য প্রতি ইউনিটে ২৫ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তাই বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিদ্যুৎ সংকট এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক—তিন দিক থেকেই এই সিদ্ধান্ত এখন আলোচনার কেন্দ্রে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এই বিদ্যুৎ চুক্তি দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলছে।