‘ধনী ও গরিবের মধ্যে ব্যবধান যেন…’! পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে খোলা চিঠি

Spread the love

বাংলাকে সাফ-সুতরো করার পণ নিয়ে ফেলেছে বিজেপি। শহর কলকাতার ইতিউতি ঘুরছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রাস্তার ধারে পড়ে থাকা নোংরা, বেদখল করে বসা দোকানপাট, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের চোখ রাঙানিতে সকলেই বেশ তটস্থ। সোমবার আচমকাই গড়িয়াহাট বাজারে পৌঁছে যান বিজেপি নেত্রী। বাজারের অপরিচ্ছন্নতা দেখে বেজায় চটে যান। ফতেয়া জারি করেন যে, নিজের দোকানের সামনের অংশ পরিষ্কারের দায়িত্ব ব্যবসায়ীদেরকেই নিতে হবে। নোংরা দেখলেই দিতে হবে জরিমানা। বাজারের দোকানগুলির অবৈধ সম্প্রসারণ সরানোর নির্দেশও দেওয়া হয়। প্রত্যেকটি দোকানে ডাস্টবিন রাখা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ আসে। এর আগে রাস্তাঘাটে আবর্জানা ফেললে, থুতু বা প্রস্রাব করলেও জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা।

এবার ফেসবুকে একটা দীর্ঘ পোস্ট করলেন বামমনস্ক অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। খোলা চিঠি লিখলেন তিনি অগ্নিমিত্রা পালকে উদ্দেশ্য করে। সেই পোস্টে লেখা হয়, ‘আমি আপনাকে বহু বছর ধরে চিনি, তাই কয়েকটি ব্যক্তিগত কথা বলতে চাই। এরা এমন মানুষ, যারা এই ব্যবস্থার মধ্যেই জন্মেছে ও বড় হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে তাদের শেখানো হয়েছে যে এটাই স্বাভাবিক জীবনযাপন। এখন যেন তাদের অস্তিত্বই একটি রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় লক্ষ্য। নাগরিক সচেতনতারও গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, রোম একদিনে তৈরি হয়নি।’

‘মানুষের কাছে শিক্ষা, টেকসই জীবিকা এবং দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে একটি জীবন নিশ্চিত করতে হবে, তারপরই তাদের কাছ থেকে আচরণগত পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা যায়। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে থাকা মানুষদের লক্ষ্যবস্তু করার আগে অর্থনৈতিক বাস্তবতার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। রাস্তার ধারে থুতু ফেলার জন্য শুধু জরিমানা করলেই হবে না, বরং কেন এই ধরনের আচরণ তৈরি হয়েছে, সেই কারণগুলিও খতিয়ে দেখা দরকার। একজন নারী হিসেবে আরেকজন নারীকে আমার অনুরোধ, মানুষকে বোঝার চেষ্টা করুন এবং তাদেরও বোঝাতে সাহায্য করুন। কিন্তু বোঝাপড়ার শুরু হয় শিক্ষা থেকে, আর শিক্ষার ভিত্তি হল এমন একটি জীবন যেখানে প্রতিদিন বেঁচে থাকার চিন্তায় জর্জরিত থাকতে হয় না।’, আরও লেখেন শ্রীলেখা।

ফেসবুকের সেই পোস্টে আরও লেখা হয়, ‘আমরা বিদেশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাস্তা দেখে মুগ্ধ হই এবং ভাবি আমাদের দেশে কেন তা সম্ভব নয়। কিন্তু আমাদের বাস্তবতা আলাদা। জনসংখ্যার ঘনত্ব, প্রতিদিনের সংগ্রাম এবং আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি এক নয়। অর্থনীতির উন্নতি অবশ্যই দরকার, তবে তা যেন ধনী ও গরিবের মধ্যে ব্যবধান আরও না বাড়ায়। আসুন, সেই ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করি। দরিদ্রদের আরও প্রান্তিক করে না দিয়ে, তাদের শিক্ষিত করি, ক্ষমতায়ন করি এবং উন্নতির সুযোগ করে দিই। আশা করি, আপনি আমার কথার মর্মার্থ বুঝতে পারবেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *