২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে টালিগঞ্জ আসন থেকে নির্বাচনে জিতেছেন পাপিয়া অধিকারি। ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনেও পাপিয়া উলুবেরিয়া কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়েছিলেন, যদিও হেরে যান। তবে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর থেকে তিনি টলিউডকে নতুন করে সাজাতে লেগেছেন কোমর বেঁধে। টলিউডের পুরনো গিল্ড ও টেকনিশিয়ানদের ফেডারেশন ভেঙে দিয়ে তাঁর নেতৃত্বে একটি নতুন ছাতার তলায় সবাইকে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে। যার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন পাপিয়া, রুদ্রনীল ঘোষের মতো তারকা নেতারা।
সম্প্রতি ‘নেভারমাইন্ড’ সিনেমার ট্রেলার লঞ্চে একসঙ্গে দেখা গেল পাপিয়া অধিকারি ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। স্বাভাবিকভাবেই ঋতুপর্ণাকে মিডিয়ার তরফ থেকে প্রশ্ন করা হয়, সদ্য নির্বাচিত টলিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া-র থেকে কী প্রত্যাশা তাঁর। আর জবাবে অভিনেত্রী জানান, দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা। এমনকী দাবি করেন, পাপিয়া ভোটে জেতার পর, তিনিই প্রথম ফোন করে জানিয়েছিলেন শুভেচ্ছা।
ঋতুপর্ণা বললেন, ‘পাপিয়াদির কাছে এখন চাওয়া না, সবসময়ই চাওয়া। পাপিয়াদি আমার খুব কাছের। যেদিনকে ভোটের রেজাল্ট বেরিয়েছে, প্রথম ফোন আমি করেছি। আর আমাদের সম্পর্ক আজকের না বহু বছরের। আর পাপিয়াদি আমার পরিচালকও। আমরা একসঙ্গে একটা ছবিও করেছিলাম।’
আর ঋতুপর্ণার কথার প্রসঙ্গ ধরেই পাপিয়া বলে ওঠেন, ‘ওর বাড়িতে গেলে ও আমাকে আমসত্ব খাওয়ায়, আমার বাড়িতে এলে আমি আচার খাওয়াই।’ এরপর ঋতুপর্ণা বিজেপি নেত্রী, বিধায়ক, অভিনেত্রীর প্রশংসা করে বলে ওঠেন, ‘পাপিয়াদির মতো বিবি পায়রা কেউ নাচতে পারে না! গর্জিয়াস।’
পাপিয়া অধিকারি ১৯৬১ সালের ১৮ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। আশির ও নব্বইয়ের দশকে তিনি বাংলা সিনেমার একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় নায়িকা ছিলেন। তাঁর অভিনীত অসংখ্য বাণিজ্যিক সিনেমা দর্শকদের মনে জায়গা করে নিলেও, জনপ্রিয় গান ‘বিবি পায়রা’-র কারণে দর্শকরা তাঁকে এখনো চেনেন, ভালোবাসেন।

ভোটে জেতার পর পাপিয়া শুধু টলিউডকে বদলানোর দাবি করেননি, সঙ্গে ভারতে আরও একবার মেসিকে আনার ঘোষণাও করেছেন। প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে অরূপ ঘোষকে গো হারা হারান পাপিয়া। আর অরূপের সেই ‘কুখ্যাত’ মেসি পর্ব তো নতুন করে বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না। ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যেভাবে মেসিকে ঘিরে রেখেছিলেন প্রাক্তন ক্রিড়ামন্ত্রী, তাতে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। মেসিকাণ্ডে ইতিমধ্যে হাজিরা দিয়েছেন অরূপ, মুখোমুখি হয়েছেন দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের। লিওনেল মেসির টিম থেকেও ইমেল করে ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়েছে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করা হয়েছে, অরূপ বিশ্বাস বারবার মেসির কাঁধে ও কোমরে হাত দিচ্ছিলেন। এমনকী প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে তাঁরই পরিচিত একাধিক লোক মাঠে ঢুকে গিয়েছিল। যাঁদের ঢোকার কথা ছিল না, ফলে ব্যাহত হয়েছিল ফুটবল কিংবদন্তির নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে পাপিয়ার আশ্বাস যে, তিনি আরও একবার মেসিকে কলকাতায় আনবেনই।