পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া কেমন থাকবে? কোথায় হবে বৃষ্টি?

Spread the love

দেশের বহু প্রতীক্ষিত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু অবশেষে কেরলে প্রবেশ করেছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (IMD) বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ২০২৬ সালের বর্ষা ৪ জুন কেরল উপকূলে পৌঁছেছে। সাধারণত ১ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশ করে, ফলে এ বছর মৌসুমি বায়ুর আগমন প্রায় তিন দিন দেরিতে হল। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বর্ষার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে কেরল, লাক্ষাদ্বীপ, তামিলনাড়ু-সহ দক্ষিণ ভারতের একাধিক এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। তবে বর্ষার আগমন সত্ত্বেও আবহাওয়া দপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে উদ্বেগও রয়েছে। ২০২৬ সালে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আগে থেকেই সতর্ক করেছে IMD। সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাবের কারণে চলতি মরশুমে বৃষ্টির ঘাটতির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে প্রাক বর্ষার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলায় বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি থাকবে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। এর ফলে দীর্ঘদিনের গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই বৃষ্টিপাত মূলত প্রাক বর্ষার প্রভাবে হবে। উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টির জেরে তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দেশের অন্যান্য অংশেও বর্ষা পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, বৃহস্পতিবার কেরলে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। একইসঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু লাক্ষাদ্বীপ ও তামিলনাড়ুর কিছু অংশেও পৌঁছতে পারে। ইতিমধ্যেই আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বর্ষার আগমন ঘটেছে। সাধারণত ১ জুন ভারতের মূল ভূখণ্ডে বর্ষা প্রবেশ করে, তবে এ বছর এখনও কেরলে মৌসুমি বায়ুর আনুষ্ঠানিক প্রবেশ হয়নি।

অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া আপাতত বজায় থাকবে। যদিও বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার ও রবিবার বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকতে পারে। ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। কলকাতাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টির পরেও তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *