পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে পেট্রোল-ডিজেলের নতুন দর জানুন

Spread the love

আন্তর্জাতিক বাজারে অশান্তির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দামে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত তীব্র হওয়ায় পশ্চিম এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালিতে হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবার ব্যারেলপিছু ৮০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের সাধারণ মানুষের জন্য আপাতত স্বস্তির খবর, কারণ ৯ জুলাই দেশজুড়ে পেট্রোল, ডিজেল, এলপিজি এবং সিএনজির দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি।

রাজধানী দিল্লিতে এক লিটার পেট্রোলের দাম ১০২.১২ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯৫.২০ টাকাতেই স্থির রয়েছে। একইভাবে গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯৪২ টাকা এবং বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২,৯৩০ টাকা রয়েছে। দিল্লিতে সিএনজির দামও অপরিবর্তিত থেকে প্রতি কিলোগ্রাম ৮৩.০৯ টাকা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অবশ্য উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ইরান ও আমেরিকার সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এই জলপথ দিয়েই বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং এলপিজি বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। হামলার পরও ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের কয়েকটি জাহাজ ওই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও অন্তত একটি ভারতীয় পতাকাবাহী সুপার ট্যাঙ্কার নিরাপত্তার কারণে মাঝপথ থেকেই রুট পরিবর্তন করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতে আসা তেলবাহী জাহাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। ভারত এখনও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন সরবরাহকারীর কাছ থেকে স্বাভাবিক হারে অপরিশোধিত তেল, এলপিজি এবং এলএনজি আমদানি শুরু করতে পারেনি। ফলে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উপর সরকার কড়া নজর রাখছে।

কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা ভারতের অন্তত নয়টি তেল ও এলপিজি বোঝাই জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কূটনৈতিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে। ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি বিদেশ মন্ত্রক ওই অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়েও সক্রিয় হয়েছে। বর্তমানে এই নয়টি জাহাজে প্রায় ১৯৮ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ, এলএনজির প্রায় ৬০ শতাংশ এবং এলপিজির প্রায় ৯০ শতাংশই হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে দেশে আসত। ফলে এই জলপথে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হলে ভবিষ্যতে জ্বালানির দামেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে ৯ জুলাই পেট্রোল ও ডিজেলের দামেও কোনও পরিবর্তন হয়নি। কলকাতায় এক লিটার পেট্রোলের দাম রয়েছে ১১৩.৫১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯৯.৮২ টাকা। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় দামে সামান্য ফারাক থাকলেও এদিন কোথাও নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *