Tiljala Rape Case: পূর্ব কলকাতার তিলজলায় এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর বান্ধবীর বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, মেয়ের ঘনিষ্ঠ বান্ধবীকে ভয় দেখিয়ে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করেন অভিযুক্ত। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে তিলজলা থানার পুলিশ মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের পরিবার তিলজলা লেন এলাকায় থাকে। অভিযুক্তের মেয়ের সঙ্গে অভিযোগকারিণীর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ছিল। সেই সূত্রে দুই পরিবারের মধ্যে যাতায়াতও ছিল নিয়মিত। সম্প্রতি পারিবারিক সমস্যার কারণে কয়েকদিনের জন্য বান্ধবীর বাড়িতে এসে থাকতে শুরু করেন ওই তরুণী।
অভিযোগ, সেই সময় থেকেই তরুণীর উপর কুদৃষ্টি পড়ে বান্ধবীর বাবার। বাড়ির অন্য সদস্যরা বিভিন্ন কাজে বাইরে বেরিয়ে গেলে অভিযুক্ত ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়িতে থেকে যেত। সেই সুযোগে ফাঁকা বাড়িতে তরুণীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার কথা কাউকে জানালে তাঁকে খুন করে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা।
ভয় এবং সামাজিক লজ্জার কারণে প্রথমদিকে কাউকে কিছু জানাতে পারেননি ওই তরুণী। অভিযোগ, অভিযুক্ত সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তাঁকে বারবার ভয় দেখিয়ে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। দীর্ঘদিন ধরে এই অত্যাচারের ফলে তরুণী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েন। শেষ পর্যন্ত আর চুপ করে থাকতে না পেরে নিজের পরিবারের সদস্যদের পুরো বিষয়টি জানান তিনি। পরে বান্ধবীকেও ঘটনার কথা জানান। প্রথমে নিজের বাবার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বিশ্বাস করতে পারেননি ওই তরুণীর বান্ধবী। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে শেষ পর্যন্ত নির্যাতিতা তিলজলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মামলায় আরও কোনও তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পরিচিত একজনের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় বাসিন্দারাও বিস্মিত। তদন্তকারীদের আশা, নির্যাতিতার বয়ান এবং সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত সত্য দ্রুত সামনে আসবে।