পাক প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

Spread the love

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) ইসলামাবাদে আলাদা আলাদাভাবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।

রাষ্ট্রীয় টিভির বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতেও বলা হয়, বৈঠকে ‘আঞ্চলিক পরিস্থিতি’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, ইসলামাবাদে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদাম ও অন্যান্য কর্মকর্তারা।

আলোচনায় সংশ্লিষ্ট এক পাকিস্তানি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, আরাঘচি তেহরানের পক্ষ থেকে তাদের আলোচনার শর্ত ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবির বিষয়ে আপত্তিগুলো পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরেছেন।

প্রতিবেদন মতে, এর আগে আরাঘচি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেন। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে রাষ্ট্রীয় টিভি জানায়।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আর ইরানের প্রতিনিধিদলে ছিলেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি, রাষ্ট্রদূত মোগাদাম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। 

রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছান আরাঘচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছান। পাকিস্তানের মাধ্যমে আগে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, তার ওপর তেহরানের আনুষ্ঠানিক জবাব সঙ্গে নিয়ে আসেন তিনি। তাকে স্বাগত জানান উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির।

সফরের আগে তিনি দার ও মুনিরের সঙ্গে আলাদা টেলিফোনে কথা বলেন, যেখানে যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক অগ্রগতির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এই সফরটি তার তিন দেশের রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ, যার মধ্যে ওমান এবং রাশিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। 

আরাঘচির এই সফর এমন এক সংবেদনশীল সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধে কাগজে-কলমে একটি ভঙ্গুর ও ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ বাড়ানো যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে। তবে নৌ অবরোধ, পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা এবং ছাড় দেয়ার ধাপ নিয়ে মূল বিরোধগুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের প্রতিনিধিদলের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর তেহরানের চূড়ান্ত অবস্থান তুলে ধরা।

তেহরান ছাড়ার আগে এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ‘আমার এই সফরের উদ্দেশ্য হলো দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা। আমাদের প্রতিবেশীরাই আমাদের অগ্রাধিকার।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানান, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো বৈঠক হওয়ার পরিকল্পনা নেই। ইরানের পর্যবেক্ষণ পাকিস্তানকে জানানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমেরিকার চাপিয়ে দেয়া আগ্রাসী যুদ্ধের অবসান এবং এই অঞ্চলে শান্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চলমান মধ্যস্থতা ও সদিচ্ছার অংশ হিসেবে আরাঘচি তাদের সাথে বৈঠক করবেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *