তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ সেভাবে মুখ না খুললেও, মক্কা প্যাক্টে তাদের কতটা আগ্রহ তা নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছে ঢাকা। ইতিমধ্যেই তারা ভারসাম্য মূলক কূটনীতি বজায় রাখতে, চিনের থেকে কিনছে যুদ্ধবিমান, আর আমেরিকার থেকে কিনছে বোয়িং উড়োজাহাজ। এদিকে, রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের সদ্য দায়িত্ব পাওয়া বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশের মক্কা প্যাক্টে যোগদানের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলেছেন। সদ্য তিনি সৌদি থেকে সফর করে এসেছেন। সেখানে তিনি সৌদির বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সদ্য তাঁর বৈঠক হয়েছে বাংলাদেশে সৌদির দূতের সঙ্গে। এদিকে, মক্কা প্যাক্টের তিন অংশীদার পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি তাদের প্যাক্টের প্রথম বৈঠকে বসছে।
গত ৭ আগস্ট, সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তানের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে মক্কা প্যাক্ট। এই সদ্ধি অনুযায়ী প্যাক্টের আওতায় থাকা যেকোনও দেশের ওপর হামলা মানে, প্যাক্টের আওতায় থাকা বাকি দেশগুলির ওপর হামলার সমান। সেই প্যাক্টে এবার বাংলাদেশ প্রবেশ করলে, তা ভারতের পূর্ব প্রান্তের এই প্রতিবেশী দেশের জন্য ঝুঁকি হয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন করলে, বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাঁচার আগে যদি মরার চিন্তা করেন, তাহলে লাভ আছে বলেন?’ তিনি বলছেন, বাংলাদেশ সবসময় বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দেশের প্রমাণিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। মক্কা প্যাক্ট নিয়ে বলতে গিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এটি একটি অনন্য উদ্যোগ। এগুলো নতুন সুযোগ।’ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা আমাদের সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য রাখব। বাংলাদেশ সারা বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। যেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রধান থাকবে, সেখানেই বাংলাদেশের অবস্থান থাকবে।’ শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার কথা তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা সারা বিশ্বে এটা করছি। তাহলে আমাদের মুসলিম ভ্রাতৃত্বের জন্য কেন তা করতে পারব না!’ তিনি এই প্যাক্টকে, আমাদের মুসলিম পরিবারের’ অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে জানিয়েছেন। তবে এখনও বাংলাদেশ মক্কা প্যাক্ট নিয়ে আমন্ত্রণ পায়নি বলে জানিয়েছেন কবির।

এদিকে, পাকিস্তান থেকে সেদেশের সেনা প্রধান তথা ক্ষমতার সর্বেসর্বা আসিম মুনির রওনা দিয়েছেন তুরস্কে। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার। পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু তুরস্ক। আরসেই তুরস্কে আয়োজিত হতে চলেছে মক্কা প্যাক্টের প্রথম বৈঠক। থাকবেন তুরস্ক ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিরা। সেই বৈঠকে কি বাংলাদেশের অন্তর্ভূক্তি নিয়ে আলোচনা হবে! প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।