বিয়ের জন্য ১৭ কোটিতে প্রাসাদ ভাড়া! হবু বরকে পাহাড়চূড়া থেকে ফেলে হত্যা

Spread the love

একটা স্বপ্নময় বিয়ে যাকে বলে তার জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার সবই করা হয়েছিল। কিন্ত হঠাতই ঘটনা এক মর্মান্তিক মোড় নেয়। হবু বরকে হত্যা করা হয়, যা কনে ও তার প্রেমিক মিলে পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মহারাষ্ট্রের খ্যাতনামা এক ব্যবসায়ীর ছেলে কেতন আগারওয়াল। পুনের নিকটবর্তী লোহাগড় দুর্গের কাছে ছবি তোলার সময় পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে তার। আকস্মিক এই মৃত্যুতে বিয়ের উৎসব মুহূর্তে শোকে পরিণত হয়েছে।

 

তবে প্রাথমিক তদন্তের পর ‍পুলিশ বলেছে, কেতন আগারওয়ালকে তার বাগদত্তা ও তার প্রেমিক মিলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল। পুলিশ এই ঘটনাকে ‘বিব্রতকর’ বলে বর্ণনা করেছে। ঘটনাটি দুই পরিবার ও তদন্তকারীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তদন্তকারী এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কোন মানুষ কীভাবে এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে?’

কী ঘটেছিল

 

গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কেতন আগরওয়াল তার বাগদত্তা সিয়া গোয়ালের জন্মদিন উদযাপন করতে লোহাগড়ে ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন। আগামী নভেম্বরেই তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কেতন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নে আকস্মিক ছেদ ঘটল।
 
ঘটনার পর তিন ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকারী দল কেতনের মরদেহ উদ্ধার করে। সিয়া প্রথমে পুলিশকে বলেছিলেন যে, ছবি তোলার সময় কেতন পা পিছলে খাদে পড়ে যান।
 
কিন্তু তদন্ত করতে গিয়ে অসঙ্গতি খুঁজে পায় পুলিশ। মোবাইল ডেটা, কল রেকর্ড এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বয়ান থেকে সন্দেহ দেখা দেয়। পরে পুলিশ সিয়াকে এবং তার প্রেমিককে আটক করে।
 
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সিয়া গোয়াল ও তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলে কেতনকে পাহাড়চূড়া থেকে ধাক্কা দিয়ে গভীর খাদে ফেলে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ এখন দেখছে অন্য কেউ এই ষড়যন্ত্রে সাহায্য করেছিল কি না।
 

বিলাসবহুল বিয়ের আয়োজন

 

কেতন ছিলেন পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের (পুনে) নামকরা নির্মাণ ব্যবসায়ী বিশাল আগরওয়ালের ছেলে। আগামী নভেম্বরে রাজস্থানের উদয়পুরে সিয়া গোয়ালে সঙ্গে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। দুই পরিবার জয়পুরের একটি প্রাসাদ ১৭ কোটি টাকায় বুকিং করেছিল।
 
অতিথিদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল দুটি প্রাইভেট প্লেনের। বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল পুরোদমে। এক আত্মীয় বলেন, ‘দুই পরিবারই খুব খুশি ছিল। এই ঘটনা সবার জন্য বিরাট ধাক্কা।’
  

হত্যার উদ্দেশ্য

 

পুলিশের মতে, সিয়া গোয়াল কেতনকে বিয়ে করতে চাননি। তিনি তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন এবং তার প্রেমিক (বন্ধু) চেতনের সাহায্য নেন। জন্মদিনের অজুহাতে তিনি কেতনকে লোহাগড়ে নিয়ে যান। সুযোগ বুঝে তিনি ও চেতন মিলে কেতনকে খাদে ধাক্কা দেন।
 
এসএসপি সন্দীপ সিং গিল জানান, চেতনের সঙ্গে সিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং দুজন একসঙ্গে কাজ করতেন। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্তে আমরা দেখেছি চেতনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং দুই আসামিই কেতন আগরওয়ালকে হত্যার ষড়যন্ত্র করার কথা স্বীকার করেছে।’ 
 
এ ঘটনায় পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে এবং আরও তদন্ত চলছে। সন্দেহভাজন দুই আসামিকেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *