পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন নিয়ে মার্কিন নেতাদের দাবি নাকচ করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করতে দেয়ার পরিকল্পনা তেহরানের নেই।
সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রথম দফার শান্তি আলোচনার পর সোমবার (২২ জুন) মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেন, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিদর্শনে আমন্ত্রণ জানাতে সম্মত হয়েছে।
একই দাবি করেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি বলেন, ইরান ‘সম্পূর্ণ এবং সর্বসম্মতভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিদর্শন’ করতে দিতে রাজি হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানী তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শিকার পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে আইএইএ পরিদর্শকদের সফর নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়নি।
ভ্যান্স দাবি করেছিলেন, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অংশ হিসেবে একটি সমঝোতা হয়েছে, যার আওতায় আইএইএ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সুযোগ পাবে। তবে ইরান স্পষ্ট করেছে যে, এমন কোনো পরিদর্শন সফর এখনো নির্ধারিত হয়নি এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
২০২৫ সালে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে আইএইএ একাধিকবার ইরান সফর করেছে। তবে যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতে সংস্থাটিকে এখনো প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

বিশেষ করে ফোরদো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহান-এর গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পর সেখানকার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন রয়েছে। আইএইএ দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থাপনায় সরাসরি পরিদর্শনের অনুমতি চেয়ে আসছে।