‘বিয়ে করতে জেলে যাচ্ছি!’ টোপর পরিয়ে রানাঘাটের তৃণমূল কাউন্সিলরকে অভিনব ‘জামাই আদর’

Spread the love

Ranaghat News: কোথাও ‘ডিম থেরাপি’, তো কোথাও আবার চোর-চোর স্লোগান। প্রায়শয়ই রাজ্যজুড়ে এমনই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এবার সম্পূর্ণ এক বেনজির ও চরম নাটকীয় দাওয়াইয়ের সাক্ষী থাকল রানাঘাটবাসী। রানাঘাট পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর জয়দীপ দত্ত ওরফে বগাই দত্তকে ঘিরে ভর সন্ধ্যায় শুরু হওয়া তীব্র জনরোষ গড়াল গভীর রাত পর্যন্ত। তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এই কাউন্সিলরকে স্রেফ মারধরই নয়, রীতিমতো মাথায় টোপর পরিয়ে, গলায় ‘বিয়ে করতে জেলে যাচ্ছি’ লেখা পোস্টার ঝুলিয়ে বেনজির হেনস্থার শিকার হতে হলো খোদ জনতার দরবারে। পুলিশ ওই আক্রান্ত কাউন্সিলরকে পরে উদ্ধার করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রানাঘাটের চৌধুরী মোড় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে রানাঘাট পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় রানাঘাটের অত্যন্ত ব্যস্ত চৌধুরী মোড় এলাকায় আচমকাই দেখা যায় একদল মানুষ ঘিরে ধরেছেন তৃণমূল কাউন্সিলর জয়দীপ (বগাই) দত্তকে। তবে শুধু সাধারণ বিক্ষোভ নয়, মুহূর্তের মধ্যে প্রতিবাদের ধরন বদলে যায় এক অন্য মাত্রায়। কেউ একজন বগাই বাবুর মাথায় জোর করে পরিয়ে দেন বিয়ের টোপর। পাশাপাশি, তাঁর গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয় একটি বড় পোস্টার। সেই পোস্টারে বড় বড় অক্ষরে লেখা ছিল, ‘আমি ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বগাই দত্ত, বিয়ে করতে জেলে যাচ্ছি।’ স্থানীয় লোকজন ঘটনা দেখে রাস্তায় জড়ো হয়েছিলেন। উত্তেজনাও ছড়ায় এলাকায়।

এই দৃশ্য দেখে প্রথমে থতমত খেয়ে যান পথচারীরা। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই কৌতূহল বদলে যায় চরম উত্তেজনায়। উপস্থিত জনতার একাংশ বগাই দত্তকে লক্ষ্য করে একের পর এক চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুসি মারতে শুরু করে। একই সঙ্গে চলে তীব্র কটূক্তি ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে এই নজিরবিহীন হেনস্থা। এদিকে, এই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রানাঘাট থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে কাউন্সিলরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকায় এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তৃণমূল আমলে ওই কাউন্সিলর দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি চালিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই সোমবার রাতে জনরোষের বিস্ফোরণ ঘটে বলে দাবি এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের। ভর সন্ধ্যায় শহরের বুকে শাসকদলের প্রাক্তন কাউন্সিলরের এই হেনস্থার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রানাঘাটের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে গেরুয়া শিবিরের দিকে আঙুল তোলা হলেও, সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি।

বিজেপির রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমের ৫ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি দাবি করেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর বক্তব্য, ‘বিজেপি এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে না। এই ঘটনায় দলের কোনও কর্মী বা সমর্থক জড়িত নন।’ অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের একাংশের মতে, বগাই দত্তর ব্যক্তিগত কিছু কাজকর্মের জন্য দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তবে প্রকাশ্য রাস্তায় একজন প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিকে এভাবে মারধর ও টোপর পরানোর ঘটনা আইনশৃঙ্খলার অবনতি কিনা, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *