পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে নতুন করে জোরালো হয়েছে জল্পনা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন? এই জল্পনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠক ডেকেছে কংগ্রেস। একই সময়ে দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে করেন মুর্শিদাবাদের দুই বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান এবং আবু তাহের খান। সূত্রের খবর, বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় মুর্শিদাবাদ জেলার উন্নয়ন ছিল। যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, সাম্প্রতিক সাংসদ বিদ্রোহের পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠকের তাৎপর্য অনেক বেশি।
সোমবার দিল্লিতে তৃণমূলের প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে এনডিএ-কে সমর্থনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তার আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁদের অধিকাংশের বৈঠক হয়েছিল বলে জানা যায়। সেখানে ছিলেন শুভেন্দুও। বিদ্রোহীদের সেই চিঠিতে খলিলুর রহমান এবং আবু তাহের খানেরও স্বাক্ষর ছিল। পরে সোমবারই দিল্লিতে সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাসভবনে আরও একটি বৈঠক হয় বিদ্রোহীদের। সেখানেও শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত ছিলেন। তবে সেই বৈঠকের পরও বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা অসম্পূর্ণ থেকে যায় বলে সূত্রের দাবি।
খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, সোমবারের বৈঠকে জেলার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু সময়ের অভাবে সব বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই নতুন করে এই বৈঠকের আয়োজন। তবে বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন খলিলুর রহমান। তাঁর বক্তব্য, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় যা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি বিজেপিতে যোগ দিইনি, ভবিষ্যতেও যাব না। জনপ্রতিনিধি হিসেবে যতদিন দায়িত্বে আছি, ততদিন জেলার উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাব।’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্রোহী সাংসদদের একাংশ এখনও নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না করায় দিল্লির এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলি আগামী দিনের সমীকরণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
