ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প: এ পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার

Spread the love

ভেনেজুয়েলায় ৩৯ সেকেন্ডের মধ্যে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ হতাহতের এ তথ্য জানান। খবর বিবিসি’র।

 

ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা নিয়ে রদ্রিগেজই এই প্রথম কোনো পরিসংখ্যান দিলেন। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি।
 
এর আগে বিবিসি জানায়, ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হানে শক্তিশালী দু’টি ভূমিকম্প।
 
বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে। এর ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হয়, যার মাত্রা ৭ দশমিক ৫ ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ভেনেজুয়েলার ইউমারে শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
ইউএসজিএস বলছে, ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক হতাহত ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয় প্রধান ভূমিকম্পের পর ১০ হাজারের বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং এক লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ৩০ শতাংশ।
 
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ভূমিকম্পের পর বহু ভবন ধসে পড়েছে, বন্ধ হয়েছে জ্বালানি সরবরাহ এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ সাহায্যের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।
 
দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশে ভাষণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলার তদারকির জন্য তিনি একজন জেনারেলকে দায়িত্ব দেন। ভাষণে তিনি ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি সর্বোপরি ঐক্যের আহ্বান জানান। এছাড়া, ভূমিকম্পে যারা তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন তাদের প্রতি সমবেদনা জানান ডেলসি রদ্রিগেজ।
 
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, ভূকম্পন প্রতিবেশী কলম্বিয়া পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। এএফপি জানায়, ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেইয়ো জনগণকে তাদের বাড়ি ছেড়ে যেতে বলেছেন। তিনি জানান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেশ কয়েকটি ভবনে আগে থেকেই জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
 
কারাকাসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে জানিয়েছে যে তারা ‘ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে’। জনগণকে ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ না করতে’ আহ্বান জানিয়েছে।
 
বিবিসি বলছে, প্রথম ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে আঘাত হানে। ওই সময়টা সাধারণত ব্যস্ততম যানজটের সময় হয়ে থাকে। তবে ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় একটি জাতীয় ছুটির দিন। ১৮২১ সালের কারাবোবো যুদ্ধের স্মরণে দিনটি পালন করা হয়, যেখানে ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা সিমন বলিভার স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিজয় অর্জন করেছিলেন। ফলে, সাধারণ কর্মদিবসের তুলনায় এদিন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মানুষ ঘরে অবস্থান করছিলেন।
 
 
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা ফুটেজে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাসিন্দাদের রাস্তায় ছুটে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে।
 
ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আঘাত এটাই প্রথম নয়। ১৯৬৭ সালে ৬ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প কারাকাসে আঘাত হানলে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। সে সময় মধ্যবিত্ত এলাকা পালোস গ্রান্দেস এবং উচ্চবিত্ত এলাকা আল্তামিরায় অনেক ভবন ধসে পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *