ভোলারির হ্যাঙ্গার রহস্য: একটি ‘মিথ্যা’ কীভাবে সফল করেছিল বায়ুসেনার গোপন মিশন?

Spread the love

Operation Sindoor: ২০২৫ সালের ১০ মে-র সকাল। পাকিস্তান ভূখণ্ডে তখন তীব্র আক্রমণ চালাচ্ছে ভারতীয় বিমানবাহিনী (IAF)। সংঘাতের পারদ চরমে উঠতেই ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আওতায় পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটিতে একের পর এক মারাত্মক আঘাত হানছে ভারত। ঠিক এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাউথ ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ডের (SWAC) দায়িত্বে থাকা এয়ার মার্শাল এক কঠিন ধর্মসংকটের মুখোমুখি হন। এমনটাই দাবি করা হয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র প্রতিবেদনে।

এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামনে তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মিশন উড়ানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিশানা-গান্ধীনগরে অবস্থিত এসডব্লিউএসি (SWAC) সদর দফতর থেকে ৫২০ কিলোমিটার উত্তরে পাকিস্তানের ‘ভোলারি এয়ারবেস (Pakistan Bholari)।’ এয়ার মার্শালের কমান্ডের অধীনে থাকা কোনও এক প্রথম সারির বিমানঘাঁটিতে-হোক তা ভুজ, জয়সলমীর, ফলোডি, নালিয়া, জামনগর, যোধপুর, উত্তরলাই/বারমের কিংবা পুনে-যুদ্ধবিমানের ককপিটে বসে তখন উড়ানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ভারতীয় ফাইটার পাইলটদের একটি দল। তবে ঠিক কোন বেস থেকে এই যুদ্ধবিমানগুলো ওড়ার অপেক্ষায় ছিল, তা কৌশলগত কারণে প্রকাশ করেনি বায়ুসেনা।

লক্ষ্যবস্তু ভোলারির বিমানঘাঁটিতে ছিল আপাতদৃষ্টিতে আলাদা করা একটি বিশেষ হ্যাঙ্গার। ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে স্পষ্ট তথ্য ছিল যে সেই হ্যাঙ্গারের ভেতরে রয়েছে-সুইডেনের তৈরি ‘সাব এরিয়েই’ (SAAB Erieye), যা পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী আকাশপথে আগাম নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণকারী বিমান (AWACS)। ঠিক সেই চূড়ান্ত মুহূর্তেই বেজে ওঠে এয়ার মার্শালের ফোন। অপর প্রান্তে ছিলেন স্বয়ং বায়ুসেনা প্রধান (Air Chief)।কিন্তু কেন এই ফোন? তবে কী কোনও পরিকল্পনা পরিবর্তন হতে চলেছে? সমস্ত সিস্টেম চালু করে ককপিটে চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় বসে থাকা পাইলটদের কী তবে মিশন বাতিল করে নেমে আসার নির্দেশ দেওয়া হবে? কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে একেবারে অটল ছিলেন এয়ার মার্শাল নাগেশ কাপুর। কোনও অবস্থাতেই নিজের পাইলটদের এমন ঐতিহাসিক ও নিখুঁত মিশন পরিচালনা করা থেকে বঞ্চিত করতে রাজি ছিলেন না তিনি।

সম্প্রতি এনডিটিভি-র বিশেষ পডকাস্ট ‘#CtrlAltDefence’-এ সেই শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে এয়ার মার্শাল নাগেশ কাপুর জানান, ‘সেই চরম মুহূর্তে মিশনটি সম্পূর্ণ করতে আমাকে নিজের প্রধানের (Air Chief) কাছে একটি মিথ্যে বলতে হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘আমাকে এক প্রকার সত্য গোপন করতে হয়েছিল। আমি বলব না যে আমি সরাসরি মিথ্যা বলেছি-তবে আমি তাঁকে পুরো সত্যিটা জানাইনি। আর এটা আমি জেনেবুঝেই করেছিলাম, কারণ আমার অপারেশনস রুমে বসে আমি যে স্ক্রিন দেখছিলাম, বায়ুসেনা সদর দফতরের অপস সেন্টারে বসে খোদ এয়ার চিফও ঠিক সেই একই ছবি দেখতে পাচ্ছিলেন। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘যুদ্ধবিমানগুলোর পজিশন কী?’ আমি উত্তর দিয়েছিলাম, ‘স্যর, এখনই টেক অফ করছে।’ অথচ আমি নিশ্চিতভাবে জানতাম যে পরবর্তী ১৫ মিনিটের আগে ওগুলো উড়তেই পারবে না। তাই সময়ের হিসাবের দিক থেকে আমি তাঁকে বিভ্রান্ত করতে বাধ্য হয়েছিলাম।’

যুদ্ধবিমানের ককপিটে বসে থাকা পাইলটরা তাঁদের গোটা কর্মজীবন ধরে যেন এই একটি মাত্র মুহূর্তেরই অপেক্ষায় ছিলেন। বছরের পর বছর ধরে চলা কঠোর মহড়া ও ট্রেনিং আজ এক চূড়ান্ত রূপ পেতে চলেছে। যুদ্ধবিমানগুলোতে সম্পূর্ণ অস্ত্র বোঝাই, জ্বালানি ট্যাঙ্কের শেষ লিটার পর্যন্ত ভর্তি। চেকলিস্ট একবার নয়, বারবার মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে-কারণ এই মুহূর্তে একটা সামান্য ভুলের অর্থ শুধুই কোনও সাধারণ ভুল নয়, তার পরিণতি হতে পারে শহিদ স্মারকের দেয়ালে একটি নতুন নাম খোদাই হওয়া। রানওয়ের টারম্যাকে তখন থমথমে চরম উত্তেজনা। ককপিটের ভেতরে পাইলট ও ওয়েপন সিস্টেম অপারেটরদের (WSO) মধ্যে ফিসফিস করে চলছে বার্তা আদান-প্রদান-অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, পেশাদার এবং আবেগহীন, যদিও তাঁদের দ্রুত চলা হৃদস্পন্দন বলে দিচ্ছিল ভেতরের আসল উত্তেজনার কথা। ক্যানোপি নেমে এসেছে, সচল হয়ে উঠেছে সমস্ত যুদ্ধ সরঞ্জাম ও সিস্টেম। আর এই ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত বিপজ্জনক অভিযানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল ভারতীয় বিমানবাহিনীর মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত পরাক্রমশালী যুদ্ধবিমান-‘সুখোই-৩০ এমকেআই’ (Sukhoi-30 MKI)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *