মঙ্গলবার অর্থাৎ আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে টলিউড! রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুতে যে কথাটি বারবার উঠে এসেছে সেটি হল কলাকুশলীদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ। ধারাবাহিক, সিরিজ অথবা সিনেমা, যাই হোক না কেন একজন অভিনেতা অথবা অভিনেত্রীর নিরাপত্তার দায় নেওয়া উচিত প্রযোজনা সংস্থার। আর সেই দাবিতেই এবার একজোট হয়েছেন সকলে মিলে।
রবিবার অর্থাৎ ৫ মার্চ বিকেলে আর্টিস্ট ফোরামের তরফ থেকে ডাকা বৈঠকে নেওয়া হয়েছিল এই সিদ্ধান্ত। বৈঠকের শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরূপ বিশ্বাস, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, প্রসেনজিৎ এবং ঋতুপর্ণা জানান আগামী মঙ্গলবার থেকে টলিউডের কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে। সিনেমা এবং ধারাবাহিকের সমস্ত শ্যুটিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিল্পী থেকে শুরু করে টেকনিশিয়ান, প্রত্যেকের সুরক্ষা প্রটোকল তৈরি করা বাধ্যতামূলক করতে হবে, নয়তো এই ধর্মঘট চলবে।
এদিকে এই ঘোষণার পর চিন্তায় ঘুম উড়েছে সিরিয়ালপ্রেমীদের। ধর্মঘট হলে কি তাঁরা আর সিরিয়ালের নতুন এপিসোড দেখতে পাবেন না? এখনই আশঙ্কিত না হলেও চলবে। কারণ বেশিরভাগ ধারাবাহিকই মোটামুটি ২-৩ দিনের ব্যাঙ্কিং নিয়ে চলে। আর সোমবার বেশিরভাগ ধারাবাহিকেই ডবল শিফটের শ্যুট হয়েছে। অর্থাৎ মেরে-কেটে খুব বেশি ৪-৫ দিন দর্শকরা দেখতে পারবেন নতুন ধারাবাহিক যদি অচলাবস্থা বজায় থাকে। সিরিয়ালের কলাকুশলী থেকে তারকা, পরিচালকরা সোমবার যতটা সম্ভব চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন ব্যাঙ্কিং করে রাখার। যাতে দর্শকদের কাছে তুলে ধরা যায় এপিসোড।
বালেশ্বর জেলার তালসারি সৈকতে ২৮-২৯ মার্চ চলছিল ভোলে বাবা পার করেগা ধারাবাহিকের আউটডোর শ্যুট। আর শনিবার ২৯ মার্চ শ্যুট চলাকালীনই তলিয়ে যান রাহুল সমুদ্রে। এরপর উদ্ধার করে তাঁকে দিঘার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থার বয়ানে ধরা পড়ে অসংগতি। এমনকী, ময়নাদতন্তের রিপোর্টও ইঙ্গিত দেয় প্রযোজনা সংস্থা কোনো তথ্য গোপন করতে চাইছেন, সেই দিকে।

এরপর ঠিক এক সপ্তাহ পর শনিবার ৪ মার্চ রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার স্বামীর মৃত্যুর তদন্তের দাবিতে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন তালসারি থানায়। আর আর্টিস্ট ফোরানের তরফে এফআইআর করা হয় কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায়।