মাধ্যমিকে প্রথম অভিরূপের ছিলেন ৯ জন টিউটর

Spread the love

৬৯৮ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকে প্রথম হয়েছেন উত্তর দিনাজপুরের অভিরূপ ভদ্র। রায়গঞ্জের সারদা বিদ্যামন্দির উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ুয়া তিনি। বাবা নেই, তাই নিজের এই সাফল্যের কৃতিত্বের পুরোটাই মাকে দিলেন অভিরূপ। এরই সঙ্গে তিনি জানান, ভালো ফল হবে বলে আশা করলেও প্রথম হবেন, তা তিনি আশা করেননি। অভিরূপের কথায়, ‘ভালো ফল করব এই প্রত্যাশা ছিল। র‌্যাঙ্ক করার আশা ছিল। ৯৮ শতাংশ নম্বর পাব ভেবেছিলাম। কিন্তু এতটা ভালো ফল হবে, এটা ভাবিনি। এই রেজাল্ট দেখে আমি খুব আনন্দিত।’

এই সাফল্য পেতে কীভাবে পড়াশোন করেন তিনি? অভিরূপ জানান, তিনি সময় ধরে পড়াশোনা করতেন না। আগের দিন তিনি টপিক নির্ধারণ করে রাখতেন। সেই মতো লক্ষ্য স্থির করে পড়াশোনা করতেন। জানা গিয়েছে, একা ছেলেকে বড় করে তোলা ইন্দ্রাণী চৌধুরী ভদ্র রায়গঞ্জ হাসপাতালের স্টাফ নার্স। অভিরূপ জানান, মা ডিউটির পাশাপাশি তাঁর পড়াশোনার দিকে সমান মন দিতেন। অভিরূপ বলেন, ‘আজ আমি যা হয়েছি তার সবটাই মায়ের জন্য। যেহেতু আমার বাবা নেই, তাই মা আমার সমস্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। আমার যখন যা দরকার হয়েছে সবই মা করেছেন।’এদিকে অভিরূপ ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হতে চান। আইআইটিতে পড়তে চান তিনি। এর জন্যে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেবেন বলে জানান অভিরূপ। এদিকে উচ্চ মাধ্যমিকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে বলে মত তাঁর। অভিরূপ বলেন, ‘মাধ্যমিকের থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়াশোনা আরও কঠিন। মাধ্যমিক স্তরে একদিন ঢিলে দিলেও উচ্চমাধ্যমিকে সেই সুযোগ নেই।’

এদিকে মাধ্যমিকের সময়ে তার গৃহশিক্ষক ছিলেন ন’জন। এদিকে পড়াশোনায় একঘেঁয়েমি এলে অভিরূপ সিনেমা দেখতেন, গান শুনতেন। এদিকে এই ফলাফলের নেপথ্যে স্কুলেরও বড় অবদান ছিল বলে জানান অভিরূপ। প্রতি মাসে স্কুলের তরফ থেকে মক টেস্ট নেওয়া হত বলে জানান অভিরূপ। এদিকে নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে কোনও কিছু বলতে চাননি তিনি। তাঁর কথায়, ‘রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না। এখনও পর্যন্ত রাজনীতি নিয়ে বলার মতো অভিজ্ঞতা হয়নি।’

উল্লেখ্য, এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে ৯ লক্ষ ৫৯ হাজার ৭৫৩। পর্ষদের তরফ থেকে জানানো হয়, এবার মেধাতালিকায় ১৩১ জন আছেন। এবছর উত্তর দিনাজপুর থেকে ১৪ জন মেধাতালিকায় আছেন। এদিকে এবারে পাশের হারের নিরিখে শীর্ষে আছে কালিম্পং (৯৫.১০ শতাংশ)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *