মেঘভাঙা বৃষ্টির তাণ্ডব! উদ্ধারকারী নৌকা ভেসে নিখোঁজ ৯! মৃত ৩

Spread the love

এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে ফের মেঘভাঙা বৃষ্টি (ক্লাউডবার্স্ট) এবং অতি ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত অরুণাচল প্রদেশ। লাগাতার বৃষ্টির জেরে অরুণাচলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে একের পর এক ভূমিধস। বহু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় একাধিক জেলার সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন। এরই মধ্যে সোমবার উদ্ধার অভিযান চলাকালীন একটি নৌকা প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ায় অন্তত ৯ জন নিখোঁজ হয়েছেন। একই সঙ্গে কেয়ি পাইয়র (Keyi Panyor) জেলায় আরও একটি দেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃতের সরকারি সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় আটকে পড়া বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছিল একটি দল। সেই নৌকায় স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু নদীর প্রবল স্রোতের মধ্যে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেসে যায়। এরপর থেকেই নিখোঁজদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি শুরু হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং নদীর তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা তৈরি হলেও প্রশাসন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং ক্লাউডবার্স্টের জেরে অরুণাচলের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কেয়ি পাইয়র, ইস্ট সিয়াং এবং লেপারাডা জেলা। কেয়ি পাইয়রে একাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার পাশাপাশি ধাপে ধাপে মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। সোমবার আরও একটি দেহ উদ্ধার হওয়ার পর সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা তিনে পৌঁছেছে।

ইস্ট সিয়াং জেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার অন্তত নয়টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাসিঘাটকে পাঙ্গিন, মারিয়াং-ইংকিয়ং এবং মেবো-দাম্বুক-বোমজিরের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলিতে বিশাল ধস নামায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি পাসিঘাট-রুনে-টাকিলালুগ সড়কেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জাতীয় সড়ক-১৩-এর একাধিক অংশে ধস, পাথর গড়িয়ে পড়া এবং রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কিছু এলাকায় রাস্তা মেরামত করতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের।

ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনেও কয়েকটি জেলায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় যানবাহন না রাখা এবং শুধুমাত্র দিনের আলোয় প্রয়োজনীয় যাতায়াত করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

উদ্ধারকাজে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), সেনাবাহিনী এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর পাশাপাশি ভারতীয় বায়ুসেনাকেও মোতায়েন করা হয়েছে। আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হলে মঙ্গলবার ভোর থেকেই হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলে বর্ষাকালে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টির ফলে ক্লাউডবার্স্ট, আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। তাই আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখার পাশাপাশি সরকারি সতর্কতা মেনে চলাই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *