Arunchal Chinese Incursion। অরুণাচলে ‘চিনা অনুপ্রবেশের’ গুরুতর অভিযোগ

Spread the love

ভারত-চিন সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একাধিক দফা সামরিক ও কূটনৈতিক বৈঠক চললেও অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ফের উদ্বেগজনক অভিযোগ সামনে এসেছে। অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার তাকসিং অঞ্চলের ‘নাহ’ আদিবাসী সম্প্রদায়ের দাবি, গত কয়েক বছরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC)-সংলগ্ন ভারতীয় ভূখণ্ডের বিস্তীর্ণ অংশ ধীরে ধীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে চিনা সেনাবাহিনী। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপিও জমা দিয়েছে ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’।

ছয় বছরে বেড়েছে দখলের অভিযোগ

স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনের অভিযোগ, গত ছয় বছরে তাঁদের পূর্বপুরুষদের কৃষিজমি, গবাদি পশুর চরাঞ্চল এবং ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত বিস্তীর্ণ এলাকা ধাপে ধাপে চিনা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে। সংগঠনের দাবি, ২০২০ সালের আগে পর্যন্ত এই এলাকাগুলিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অবাধ যাতায়াত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে গিয়েছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য, গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরেই চিন সীমান্তবর্তী এলাকায় ধীরে ধীরে পরিকাঠামো গড়ে তুলছিল। তবে ২০২০ সালের পর সেই কার্যকলাপ অনেক বেশি গতিশীল হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমানে সীমান্তের একাধিক এলাকায় চিনা সেনাবাহিনীর উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেশি দৃশ্যমান।

যে পাঁচটি এলাকা নিয়ে অভিযোগ

নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি প্রশাসনের কাছে যে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে, সেখানে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের উল্লেখ করা হয়েছে।

  • ওয়িং (Oying): কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।
  • পোত্রাং হ্রদ (Potrang Lake): স্থানীয় আদিবাসীদের কাছে পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত।
  • তিন্দিনতাং (Tindintang): তাকসিং সদর দফতরের খুব কাছের এলাকা।
  • পানিয়ার (Paniar/Chujarta): স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বসবাস ও ব্যবহারের অঞ্চল।
  • মারপান (Marpan/Marnafe): যেখানে চিনা সেনাদের নিয়মিত যাতায়াত দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সংগঠনের বক্তব্য, এই এলাকাগুলির অধিকাংশই একসময় ভারতীয় নাগরিকদের নিয়মিত ব্যবহারের মধ্যে ছিল। বর্তমানে সেখানে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *