মেসির টানে মাঠে ‘দাই দাই’ গার্ল! প্রাক্তন বরের বন্ধুর প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা শাকিরার

Spread the love

ফিফা বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) মঞ্চ মানেই সেখানে ফুটবল আর সঙ্গীতের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। আর এই মেলবন্ধনের অন্যতম বড় প্রতীক হলেন পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা (Shakira)। চলতি বিশ্বকাপের অ্য়ান্থম ‘দাই দাই’ গেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই এই কলম্বিয়ান পপ সেনসেশন। টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার গ্রুপ ‘জে’-র ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন এই গ্লোবাল পপ তারকা। সেখান থেকেই তিনি সাক্ষী থাকলেন ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় মুহূর্তের। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের রেকর্ড ভেঙে লিওনেল মেসির বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে ওঠবার ঐতিহাসিক কীর্তিকে কুর্ণিশ জানালেন শাকিরা।

ম্যাচ শেষ হতেই নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে (Instagram Stories) বিশ্বজয়ী অধিনায়কের উদ্দেশ্যে একটি অত্যন্ত আবেগঘন ও গর্বের বার্তা শেয়ার করেন তিনি।

‘তুমি পুরো লাতিনো সমাজের অনুপ্রেরণা’— শাকিরা

ডালাস স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে আর্জেন্টিনার ২-০ ব্যবধানে জয় এবং মেসির জোড়া গোল উপভোগ করার পর শাকিরা ইনস্টাগ্রামে মেসির একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘লিও, তোমার জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত। তুমি. তোমার পরিবার, নিজের দেশ এবং সমগ্র লাতিনো (Latino) সম্প্রদায়ের জন্য যা কিছু অর্জন করছ, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তোমার এই দায়বদ্ধতা ও নিষ্ঠা কোটি কোটি মানুষের কাছে এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা। এভাবেই প্রতিনিয়ত উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে ওঠো!’

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ব্লকবাস্টার থিম সং ‘ওয়াকা ওয়াকা’ (Waka Waka)-র পর থেকেই শাকিরা বিশ্বকাপের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন। ২০২৬ সালে আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকো জুড়ে চলা এই বিশ্বকাপের জন্য নাইজেরিয়ান তারকা বার্না বয়ের (Burna Boy) সাথে যৌথভাবে অফিশিয়াল অ্যান্থেম ‘দাই দাই’ (Dai Dai) তৈরি করেছেন তিনি। এছাড়া চলতি বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের হাফ-টাইম শো-তেও (Half-time Show) পারফর্ম করার কথা রয়েছে তাঁর। এর আগে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে তাঁর ‘লা লা লা’ (La La La) গানটিও বিপুল জনপ্রিয় হয়েছিল।

শাকিরার সঙ্গে মেসির বন্ধুত্বের সম্পর্ক বহু পুরোনো। মেসির বার্সালোনার সতীর্থ জেরার্ড পিকের প্রাক্তন স্ত্রী শাকিরা। একসঙ্গে বহু সময় কাটিয়েছে দুই পরিবার। পিকের সঙ্গে ২০২২ সালে বিয়ে ভাঙে শাকিরার। তবে প্রাক্তন স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক অটুট।

পেনাল্টি মিস ও রেকর্ড নিয়ে কী বললেন ক্লান্ত মেসি?

ম্যাচের শুরুর দিকে একটি পেনাল্টি মিস করার পর ৩৯তম মিনিটে নিজের ১৭ নম্বর এবং ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে ১৮ নম্বর গোলটি করে ইতিহাস গড়েন মেসি। ম্যাচ শেষে ফিফা (FIFA)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ক্লান্ত মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি এখন আর পুরোনো গোলগুলোর কথা মনে করতে পারছি না। আমি ভীষণ ক্লান্ত, শরীরে আর বেশি শক্তি অবশিষ্ট নেই এবং সোজাভাবে চিন্তাভাবনা করতেও কষ্ট হচ্ছে। আমি শুধু এই মুহূর্তটা সতীর্থদের সাথে উপভোগ ও উদযাপন করতে চাই। আজ মাঠে ওই পেনাল্টিটা মিস হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ওটা যদি গোল হয়ে যেত, তবে হয়তো পরবর্তী গোলগুলো আমি পেতামই না!’

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড ভেঙেছিলেন আলজেরিয়া ম্যাচে

অস্ট্রিয়া ম্যাচের ঠিক কয়েক দিন আগেই কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জেতা ম্যাচে নিজের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন মেসি। সেই ম্যাচেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকটি করে ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন তিনি।

এই হ্যাটট্রিকের সাথেই ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করার বিশ্বরেকর্ড গড়েন মেসি। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দখলে। আর এবার অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে ক্লোসেকেও চিরতরে পেছনে ফেলে দিলেন ফুটবল জাদুকর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *