রাজনৈতিক তরজায় ঝাঁজ বাড়াচ্ছে তৃণমূল-BJP-সিপিএম

Spread the love

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর শিলিগুড়ি সফর ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে পরতে পরতে। মূলত এই বিতর্কের সূত্রপাত, শুক্রবার যখন শিলিগুড়িতে পৌঁছন তখন তাঁকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য সরকারের কোনও মন্ত্রী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। আর সেই নিয়েই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসকে এক ব্র্যাকেটে ফেলে নিশান করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও দিলেন আদিবাসী বিরোধী তকমা। পাল্টা বিজেপিকে নিশানা করেলন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে মহুয়া মৈত্র। যার জেরে আরও চড়া হল রাজনৈতিক তরজা।

রাষ্ট্রপতির সফর ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবারের জন্য উত্তরবঙ্গ সফরে আসেন দ্রৌপদী মুর্মু। সেখানেই শনিবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি নিজেই বলেন, রাজ্যে আসার পর তাঁকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। যদিও এই বিষয়ে তেমন অভিযোগ না তুললেও তিনি মন্তব্য করেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও তাঁরই মতো বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ভালোবাসি। মমতা বোধহয় আমার উপর রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি এবং তাঁর কোনও মন্ত্রীও আসেননি।’ শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার মনে কেউ সাঁওতালদের আটকাচ্ছে। কেউ মনে হয় চায় না ওদের উন্নতি হোক, ওরা একজোট হোক। কেউ মনে হয় সাঁওতাল শিক্ষিত হোক, শক্তিশালী হোক।’ রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য সামনে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়।

এরপরেই রাষ্ট্রপতির বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘটনার কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, ‘এই ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক।’ তাঁর মতে, গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষদের কাছে এই ঘটনা অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, জনজাতি সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা দেশের রাষ্ট্রপতির এমন মন্তব্য দেশের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে। তিনি শাসকদলকে দায়ী করে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য রাজ্যের প্রশাসনই দায়ী।’ প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সাঁওতাল জনজাতি ও সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং সেই পদের মর্যাদা সব সময় রক্ষা করা উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং তৃণমূল কংগ্রেস এই বিষয়ে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবে এবং এমন ঘটনা আর ঘটবে না। আদিবাসীদের অপমানের অভিযোগে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় কাঠগড়ায় তোলে পদ্ম শিবির।

কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

অন্যদিকে, এই বিতর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবারই তিনি ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে বলেন, ‘বিজেপি কোথায় নিয়ে গেছে সংবিধানটাকে! আমার বলতে লজ্জা লাগছে। মাননীয় রাষ্ট্রপতি তাঁকে আমরা সম্মান করি। তাঁকে দিয়েও রাজনীতি বেচতে পাঠানো হয়েছে। বিজেপির এজেন্ডা বেচতে পাঠানো হয়েছে। ক্ষমা করবেন ম্যাডাম। আপনি বিজেপির পলিসির ফাঁদে পড়ে গেছেন। কোনওদিন ইনি আসছেন, কোনওদিন এ, কোনওদিন বি, কোনওদিন সি, কোনওদিন ডি, কোনওদিন ই, আমাদের কী কাজকর্ম নেই নাকি? সারাক্ষণ আপনাদের পিছনে পিছনে লেজুর হয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে? নাকি লাটাই নিয়ে ঘুরতে হবে?’ এই ঘটনার পর রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।

বঙ্গ রাজনৈতিক তরজা

এ নিয়ে চাপানউতোরের মধ্যেই তৃণমূলের তুলোধনা শুরু করেছে বিজেপি। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাফ ‘আদিসাবী বিরোধী’ বলেই তোপ দেগে ফেলেছেন। বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলছেন, ‘রাষ্ট্রপতি কী বলছেন সেটা আমরা সবাই দেখেছি। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলছেন দুটোকে পাশাপাশি রাখুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন কে দায়ী। বুঝতে পারবেন কে সংবিধানের এক্তিয়ারের মধ্যে বলেছে, আর কে সংবিধানের বাইরে গিয়ে বলেছে। ভারতবর্ষের মতো রাষ্ট্র বলে হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে যাচ্ছেন। অন্য দেশ হলে এতক্ষণে জেলের ভিতরে থাকতেন।’ এদিকে, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলছেন, ‘সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে যাঁরা বসেন তাঁদের এরকম ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে ঝগড়া করতে হয় না। আসলে এতে পদের মর্ষাদাহানি হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, রাজ্যপালের মতো পদগুলিকে যদি সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়, রাজনৈতিক এজেন্ট হিসাবে ব্যবহার করলে সেটা ভেঙে পড়ে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *