লংজুতে বেড়েছে PLA গতিবিধি! চিন কি অরুণাচল সীমান্তে ৬০ কিমি ভিতরে ঢুকে পড়েছে?

Spread the love

Arunachal Border Dispute Update: অরুণাচল প্রদেশে চিনা সেনা ৬০ কিলোমিটার ভারতের ভিতরে ঢুকে পড়েছে। এমন দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছিল জোর বিতর্ক। এবার সেই দাবি খারিজ করলেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি তেমন নয়। সীমান্তের কিছু অংশ এখনও স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। তাই ভারত ও চিনের দিকে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে আলাদা ধারণা রয়েছে। সেখান থেকেই তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি।

সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজিজু বলেন, চিন এসে ভারতের কোনও গ্রাম দখল করে নিয়েছে, এমন ঘটনা ঘটেনি। তাঁর দাবি, কিছু এলাকায় জমির সীমারেখা নির্দিষ্ট নয়। ভারতের বাসিন্দারা মনে করেন, তাঁদের জমি আরও কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। আবার চিনের দিকের স্থানীয় ও তিব্বতি বাসিন্দারাও নিজেদের জমি আরও ভিতরে রয়েছে বলে দাবি করেন।

রিজিজুর কথায়, এই কারণেই সীমান্ত নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে। তবে তিনি এটাও জানিয়েছেন, অরুণাচল সীমান্তে চিনের সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে লংজু এলাকার সামনে একটি জায়গায় চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মি কিছু কাঠামো তৈরি করেছে। সেখানে গ্রামের মতো দেখতে একাধিক ভবনও তৈরি করা হয়েছে বলে জানান রিজিজু।

তাঁর দাবি, ওই এলাকা ১৯৫৯ সাল থেকেই চিনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১৯৬২ সালের পর সেখানে চিন আরও শক্তভাবে নিজেদের উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করে। ভারতীয় সীমান্তেও বর্তমানে একটি পোস্ট রয়েছে। তবে ১৯৬২ সালের পর থেকে ওই এলাকায় ভারত ও চিনের মধ্যে যাতায়াত বন্ধ। রিজিজু আরও জানান, ওই এলাকার উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলেও চিনা সেনার গতিবিধি সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা যে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানান।

একই সঙ্গে ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর দাবি, চিনা সেনা অরুণাচলের ভিতরে ৬০ কিলোমিটার ঢুকে পড়েছে বলে প্রচার করা ঠিক নয়। এমন দাবির সঙ্গে বাংলাদেশের মতো অন্য জায়গার ছবি জুড়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রিজিজুর মতে, এই ধরনের ভুল তথ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং সীমান্তে দায়িত্বে থাকা ভারতীয় সেনা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মনোবলেও এর প্রভাব পড়ে।

অরুণাচল পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্যও সম্প্রতি সামনে এসেছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল, সীমান্তের পরিস্থিতির প্রভাব সামগ্রিক ভারত-চিন সম্পর্কের উপর পড়ে। তাই ভুল বোঝাবুঝি এবং ভুল হিসাবের সম্ভাবনা কমাতে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ের বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলি ব্যবহার করতে দুই দেশ রাজি হয়েছে।

এদিকে অরুণাচল সীমান্তে ভারতীয় সেনা ও আইটিবিপির নজরদারি আগের তুলনায় অনেক বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিজিজু। তবে অরুণাচল প্রদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়নি। সূত্রের দাবি, জুলাইয়ের শুরুতে আপার সুবনসিরি জেলার প্রত্যন্ত তাগসিন এলাকায় প্রথম উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর ভারত ও চিনা সেনার মধ্যে একাধিক মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়। জুলাইয়ের শেষ দিকে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *