শুকিয়ে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে ইরাকের টাইগ্রিস নদী

Spread the love

আস্তে আস্তে শুকিয়ে যাচ্ছে ইরাকের টাইগ্রিস নদী (আরবিতে একে দজলা বলা হয়)। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখনই যদি জরুরি পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে এর তীরে বসবাসকারী প্রাচীন সম্প্রদায়ের মানুষের জীবন আমূল বদলে যাবে। যা স্থানীয়দের ক্রমেই উদ্বিগ্ন করে তুলছে।আস্তে আস্তে শুকিয়ে যাচ্ছে ইরাকের টাইগ্রিস নদী (আরবিতে একে দজলা বলা হয়)। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখনই যদি জরুরি পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে এর তীরে বসবাসকারী প্রাচীন সম্প্রদায়ের মানুষের জীবন আমূল বদলে যাবে। যা স্থানীয়দের ক্রমেই উদ্বিগ্ন করে তুলছে।

জল তাদের বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু এবং জীবনের প্রতিটি বড় ঘটনায় আচারগত শুদ্ধিকরণ প্রয়োজন হয়। বিবাহ অনুষ্ঠান শুরু হয় পানি দিয়ে এবং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগে মান্দিয়ানদের চূড়ান্ত শুদ্ধির জন্য নদীতে নিয়ে যেতে হয়।

শেখ নিধাম বিষয়টির ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমাদের ধর্মের জন্য পানির গুরুত্ব বাতাসের মতো। জল ছাড়া জীবনের অস্তিত্ব থাকবে না। সৃষ্টির শুরুতে আদম ছিলেন পৃথিবীর প্রথম মানুষ। আদমের আগে পানি ছিল এবং পানি ছিল আদমকে সৃষ্টিকারী উপাদানগুলোর মধ্যে একটি।’

টাইগ্রিস হলো সেই দুটি বিখ্যাত নদীর মধ্যে একটি, যা মেসোপটেমিয়াকে (ইরাকের প্রাচীন নাম) ঘিরে রেখেছে। নদীটি দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কে উৎপন্ন হয়ে ইরাকের দুটি বৃহত্তম শহর মসুল ও বাগদাদের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ইউফ্রেটিসের (আরবিতে ফোরাত বলা হয়) সঙ্গে মিলিত হয়।

এই নদীগুলোর তীরেই বিশ্বের ইতিহাস পরিবর্তিত হয়েছিল। এখানে প্রথম বড় আকারের কৃষির বিকাশ ঘটে, প্রথম লেখালেখি শুরু হয় এবং চাকার আবিষ্কার হয়। বর্তমানে টাইগ্রিসের জল সেচ, পরিবহন, শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। সেই সঙ্গে এর অববাহিকায় বসবাসকারী আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের পিপাসা মেটায়। 

গত কয়েক দশকে নদীর স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে। নদীর জলের পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। ৩০ বছরে তুরস্ক টাইগ্রিসের ওপর প্রধান বাঁধ নির্মাণ করেছে, যার ফলে বাগদাদে পৌঁছানো পানির পরিমাণ ৩৩ শতাংশ কমে গেছে। ইরাকের অভ্যন্তরেও পানির অতিরিক্ত ব্যবহার হয়, বিশেষ করে কৃষিখাতে যা দেশের ভূপৃষ্ঠের জলের কমপক্ষে ৮৫ শতাংশ ব্যবহার করে।

জলবায়ু সংকটও প্রভাব ফেলছে। ইরাকে বৃষ্টিপাত ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং দেশটি প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ খরার কবলে রয়েছে। চলতি বছরের গ্রীষ্মে টাইগ্রিসে জলের স্তর এত নিচে নেমে গিয়েছিল যে, মানুষ সহজেই হেঁটে নদী পার হতো। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *