সংরক্ষণ ইস্যুতে পরস্পরের পদত্যাগের দাবি দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

Spread the love

NDA Inner Conflict: সংরক্ষণ ইস্যুতে এনডিএ শিবিরের অন্দরের ফাটল সামনে চলে এল। এই নিয়ে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছেন নরেন্দ্র মোদী সরকারের দুই শরিক মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান (Chirag Paswan)এবং জিতন রাম মাঝি (Jitan Ram Manjhi)। শনিবার এক কদম এগিয়ে জিতন রাম মাঝির ইস্তফা দাবি করলেন চিরাগ পাসোয়ান। পাল্টা চিরাগ পাসোয়ানও পদ ছাড়ার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন জিতন রাম মাঝি। দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মধ্যে এহেন বাগযুদ্ধ, পরস্পরের পদত্যাগের তোলা নজিরবিহীন।

দিল্লির যন্তর মন্তরে সংরক্ষণ বিরোধী বিক্ষোভের পর থেকে জাতীয় রাজনীতিতে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এই আবহে হিন্দুস্তানি আওয়ামি মোর্চা সেক্য়ুলার (HAM) দলের সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতন রাম মাঝির ছেলে সন্তোষ কুমার সুমন সংরক্ষণ নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তফসিলি জাতি (SCs) এবং তফসিলি জনজাতিদের (STs) মধ্যে উপশ্রেণি তৈরির দাবি তোলেন। সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’কে নিজের দাবির সপক্ষে সন্তোষ বলেন, ‘আমার মনে হয় সংরক্ষণের লক্ষ্যপূরণ হয়নি। ২২টি দলিত জাতির মধ্যে ১৮টি মহাদলিত শ্রেণি তৈরির উদ্দেশ্য ব্যর্থ। কারণ সুবিধাভোগীদের মধ্যেই ফারাক রয়েছে। অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি তৈরি হয়েছিল অনগ্রসরদের নিয়ে। আবার উচ্চবর্ণদের নিয়েও তৈরি করা হয় অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল শ্রেণি। কোন শ্রেণির কত লাভবান হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অন্যায় হবে কেন?’

জিতনের দলের এই মন্তব্য মনঃপুত হয়নি লোক জন শক্তি পার্টি-রামবিলাসের প্রধান চিরাগের। চিরাগের দল আবার তফসিলি জাতি এবং উপজাতির মধ্যে আলাদা আলাদা উপশ্রেণির বিরোধী। তাঁর বক্তব্য, সার্বিকভাবে দলিত সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তবেই সার্বিকভাবে দলিতদের-পিছিয়ে পড়াদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে। চিরাগ পাসওয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘যারা বলছে ক্রিমি লেয়ার সব সুবিধা পাচ্ছে, তাঁরা তো নিজেরাই সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে মন্ত্রী হয়েছেন। তাহলে সবার আগে জিতন রাম মাঝির উচিত ইস্তফা দেওয়া। জিতন রাম মাঝির ছেলে সন্তোষ কুমার সুমনের (বিহারের মন্ত্রী) উচিত ইস্তফা দেওয়া। নিজেরা আগে সংরক্ষণের সুবিধা ছাড়ুন।’

চিরাগের বক্তব্য, এভাবে সংরক্ষণের মধ্যে আবার আলাদা করে সংরক্ষণ করলে সংরক্ষণের আসল উদ্দেশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলছেন, ‘এভাবে সমাজে ভাগাভাগি করলে সামাজিক ন্যায়ের ভাবনাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর দলিতদের আরও অপমানিত হতে হবে। এরপরও যদি ওদের ক্রিমি লেয়ার নিয়ে আপত্তি থাকে তাহলে সবার আগে মাঝি সাহেবের সরে দাঁড়ানো উচিত।’ চিরাগকে জবাব দিতে ভোলেননি জিতনও। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর বক্তব্য, ‘সংরক্ষণের জেরে মানুষ বঞ্চিত হতে থাকবেন। মানুষের বৃহত্তর স্বার্থেই এই বিভাজন প্রয়োজন। উনি দরিদ্র মানুষের স্বার্থ দেখতে পান না। ওঁর পদত্যাগ করা উচিত।’

২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তাতে তফসিলি জাতি এবং তফসিলি জনজাতিদের মধ্যে উপশ্রেণি তৈরিতে অনুমতি প্রদান করা হয়, যাতে আরও অনগ্রসর মানুষও সুবিধা পান। আর সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এনডিএ শিবিরের দুই মন্ত্রীর এই মুখোমুখি অবস্থান বিরোধী দলগুলির হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *