আমাদের সমাজে এখনো মেয়েদের একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর শুনতে হয়, ‘বয়স হয়ে যাচ্ছে, আর কবে বিয়ে হবে!’ অথবা চাকরি বা লেখাপড়ায় ব্যস্ত থাকলেও, সমাজের নানা প্রান্ত থেকে ভেসে আসে খোঁটা। বারবার বোঝানো হতে থাকে, একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর মেয়েদের প্রেগন্যান্সির সময় নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে! তবে সমাজের এই বাধাধরা নিয়মকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন এই টলি সুন্দরীরা। ৪০ পেরিয়ে জন্ম দিয়েছেন সন্তানের। শুধু তাই নয়, সংসার আর কাজ দুটোকেই খুব সুন্দরভাবে ব্য়ালেন্স করে পালন করে চলেছেন মাতৃত্বের সব দায়িত্ব।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত:
টলিউডের এভারগ্রিন নায়িকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। নিজের গ্রেস, স্টাইলিং দিয়ে বারংবার ঋতুপর্ণা প্রমাণ করেছেন যে বয়স একটা সংক্যা মাত্র। ১৯৯৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর তাঁর শৈশবের বন্ধু সঞ্জয় চক্রবর্তীকে বিয়ে করেন ঋতুপর্ণা। বয়স তখন ওই ২৮-২৯-এর আশেপাশে। ২০০০ সালে প্রথমবার মা হন ঋতুপর্ণা, জন্ম হয় ছেলে অঙ্কনের। ঋতুপর্ণার কোলে মেয়ে ঋষণা আসেন ২০১১ সালে। আর তখন অভিনেত্রীর বয়স ছিল ৪১ বছর।
বিদিপ্তা চক্রবর্তী:
টলিপাড়ার জনপ্রিয় নায়িকাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিদিপ্তা। ছোট থেকে বড় পর্দা, সর্বত্রই দাপিয়ে কাজ করে চলেছেন। প্রথম বিয়ে হয় বিদিপ্তার বেশ অল্প বয়সে। ঘর বেঁধেছিলেন ক্যামেরাম্যান শুভাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। সেই বিয়ে থেকে তাঁর একটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যার নাম মেঘলা। ডিভোর্সের পর ২০১০ সালে বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক বীরসা দাশগুপ্তকে বিয়ে করেন। আর ওই বছরেরই অক্টোবর মাসে তাঁর কালো আসে মেয়ে ইদা।
কোয়েল মল্লিক:
২০২০ সালে৩৮ বছর বয়সে প্রথমবার মা হন কোয়েল মল্লিক। জন্ম হয় ছেলে কবীরের। আর ২০২৪ সালে এসে দ্বিতীয়বার মা হন কোয়েল, জন্ম হয় মেয়ে কাব্যার। দুই সন্তানকে নিয়েই জিয়ে চলছে কাজ। কোয়েলকে শেষ বড় পর্দায় দেখা গিয়েছে ‘মিতিন মাসি’ সিনেমাতে।

কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়
জনপ্রিয় অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ব্যবসায়ী সুরজিৎ হরিকে বিয়ে করেন। এটি ছিল সুরজিতের দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম বিয়ে থেকে এক ছেলে হয় সুরজিতের। যার নাম দ্রোণ। কনীনিকার সঙ্গে দ্রোণের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর এবং দ্রোণ তাকে ‘মা’ বলেই ডাকে। ‘ষড়রিপু’ ছবির ডাবিংয়ের সময় সুরজিতের সঙ্গে কনীনিকার প্রথম আলাপ হয়েছিল। ২০১৯ সালের ১২ জুন মেয়ের মা হন কনীনিকা, নাম রাখেন কিয়া। ৪০ বছর বয়সে কনীনিকার কোলে আসে তাঁর প্রথম সন্তান।
জোজো
পঞ্চাশ বছর বয়সের কাছাকাছি পৌঁছে ২০২১ সালে জোজো দত্তক নেন পুত্রসন্তান আদিকে। গর্ভে ধারণ না করলেও, মাসখানেকের আদিকে যখন ঘরে আনেন জোজো, তখন করোনা লকডাউন চলছে। কোনো হাউজহেল্প-ও ছিল না। একা হাতেই সদ্যোজাত বাচ্চাটিকে বড় করেছিলেন তিনি। এখনো কলকাতায় ছেলের সঙ্গে একাই থাকেন তিনি। স্বামী থাকেন নর্থবেঙ্গলে, সেখানে চালান একটি রিসর্টের ব্যবসা। মেয়ে বাজোও কাজের সূত্রে থাকেন বেঙ্গালুরু শহরে।