Abhishek Banerjee Camac Street Case। ক্যামাক স্ট্রিটের দফতর নিয়ে স্বস্তি অভিষেকের

Spread the love

ক্যামাক স্ট্রিটের ৯ নম্বর বাড়িতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর খালি করার জন্য দমকল বিভাগের দেওয়া নোটিস খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে আপাতত ওই দফতর খালি করার বাধ্যবাধকতা থাকল না। তবে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতেই হবে কালীঘাট তৃণমূলকে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দমকল বিভাগকে নতুন করে কালীঘাট তৃণমূলকে নোটিস দিতে হবে। সেই নোটিসে জানাতে হবে, কবে দমকল আধিকারিকরা ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরটি ফের পরিদর্শন করবেন। নির্দিষ্ট নোটিস দেওয়ার পর দমকল বাহিনী ওই অফিসে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে। পরিদর্শনের পরে অফিসটিকে নিরাপদ রাখতে কী কী অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন, তা লিখিতভাবে জানাতে হবে।

দমকলের দেওয়া সেই নির্দেশিকা মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে তৃণমূলকে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ভবিষ্যতে সেই নিরাপত্তা নির্দেশিকা না মানা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার দমকল বিভাগের থাকবে। অর্থাৎ দমকলের আগের নোটিস খারিজ হলেও অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে না।

৯ ক্যামাক স্ট্রিটের সপ্তম ও অষ্টম তলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর রয়েছে। সম্প্রতি ওই ভবনে বিলবোর্ড খুলতে গিয়ে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে অভিষেক-অনুগামীদের বচসার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পর ভবনটিতে পরিদর্শনে যায় দমকল বাহিনী। ভবনের একাধিক তলা ঘুরে দেখার পর বাড়ির মালিককে নোটিস পাঠায় দমকল।

ওই নোটিসে দাবি করা হয়েছিল, সপ্তম ও অষ্টম তলায় প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ নয়। সেই কারণে তত্ক্ষণাত্ ওই দু’টি তলা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর বাড়ির মালিকপক্ষও অভিষেকের দফতর খালি করার উদ্যোগ নেয়। বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল।

শুনানিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কিশোর দত্ত যুক্তি দেন, সপ্তম ও অষ্টম তলা লিজ নেওয়া হয়েছিল। ২০২৬ সালের ২৬ অগস্ট সেই লিজ বাতিল করা হয়েছে, যা নিয়ে নিম্ন আদালতে মামলা চলছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, দমকল যে ত্রুটিগুলির কথা বলছে, তার বেশিরভাগই ভবনের মালিকপক্ষের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সপ্তম তলায় থাকা গ্যাসের সিলিন্ডারগুলিও ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়।

অন্যদিকে রাজ্যের হয়ে অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ মিত্র দাবি করেন, পরিদর্শনের সময় সপ্তম তলায় বেশ কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া গিয়েছিল। পাশাপাশি দুই তলায় ফায়ার অ্যালার্ম কাজ করছিল না এবং ৪৫টি ফায়ার স্প্রিংকলার থাকলেও সেগুলির সংখ্যা ভবনের অন্য তলার তুলনায় কম ছিল। আরও কয়েকটি অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত প্রথমে দমকলের নোটিসের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। বুধবার সেই নোটিসই খারিজ করে দেওয়া হল। একই সঙ্গে নতুন করে পরিদর্শন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছে আদালত।

ফলে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতর নিয়ে আপাতত স্বস্তি মিললেও বিষয়টির পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। এখন নতুন পরিদর্শনের পর দমকল কী নির্দেশ দেয়, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অগ্নিনিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব এ বার কালীঘাট তৃণমূলের উপরও থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *