পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশে রেললাইনের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার কোয়েটার চমন ফাটক রেলস্টেশনের কাছে এই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনায় ৮০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি ট্রেন রেললাইন অতিক্রম করার সময় বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের জেরে ট্রেনের অন্তত দু’টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের কয়েকটি ভবন ও গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ট্রেনটিতে সেনা সদস্যরাও ছিলেন। ফলে হামলার লক্ষ্য নিরাপত্তাবাহিনী হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ঘটনার পরই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তাবাহিনী। আহতদের দ্রুত কোয়েটার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের দাবি, বহু আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বালোচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী হিংসা ও জঙ্গি কার্যকলাপের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। রেললাইন, সেনা কনভয় এবং সরকারি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অতীতেও একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে বিএলএ বারবার পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনী ও অবকাঠামো প্রকল্পকে নিশানা করেছে বলে অভিযোগ।

এর আগে গত ২০২৫ সালে জাফর এক্সপ্রেস হাইজ্যাক করেছিল বিএলএ। সেই হামলার সময় ট্রেনটিতে প্রায় ৪০০–৪৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী অপারেশন গ্রিন বোলান নামে বড়সড় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় ২৪ থেকে ৩০ ঘণ্টা ধরে চলা অভিযানের পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানায়, সব ৩৩ জন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে এবং শতাধিক বন্দিকে উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারি হিসাবে অন্তত ৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল সেই হামলায়, যার মধ্যে যাত্রী, সেনাকর্মী ও জঙ্গিরা ছিল। যদিও বিএলএ-র দাবি ছিল, ট্রেনে থাকা আরও বেশি সংখ্যক সেনাকর্মীকে তারা হত্যা করেছিল।