Baruipur BJP Worker Murder। বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুন! বারুইপুরে দলেরই নেতার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

Spread the love

বারুইপুরের উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহতের নাম বাপি প্রামাণিক। এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে বিজেপিরই এক স্থানীয় নেতা সুজন মণ্ডলের দিকে। পরিবারের অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাপিকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যদিও পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য, একটি পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ থেকেই মারামারির সূত্রপাত। সেই সংঘর্ষেই গুরুতর জখম হন বাপি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের দাবি, বাপি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বিজেপি কর্মী ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূলের ‘অত্যাচারের’ কারণে প্রায় দশ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে ঘরছাড়া থাকতে হয়েছিল। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি এলাকায় ফিরে আসেন। সম্প্রতি নিজের এলাকায় একটি দোকানও খুলেছিলেন। কিন্তু সেই স্বাভাবিক জীবন বেশিদিন স্থায়ী হল না।

পরিবারের অভিযোগ, গত রবিবার রাতে ফোন করে বাড়ি থেকে বাপিকে ডেকে পাঠানো হয়। এরপর মাঝরাস্তায় তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। তাঁকে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়েও আঘাত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই মৃত্যু হয় তাঁর।

নিহতের পরিবারের দাবি, বিজেপি নেতা সুজন মণ্ডলের পরিকল্পনাতেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাপির উপর হামলা চালায়। স্থানীয় বিজেপি কর্মী বাদল মণ্ডলও একই অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, এলাকায় কয়েকজন বিজেপি কর্মী এক জায়গায় ছিলেন। সেই সময় কয়েকজন তৃণমূল সমর্থক তাঁদের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি সেখান থেকে চলে যান। পরে খবর পান, বাপির উপর হামলা হয়েছে।

বাদল মণ্ডলের অভিযোগ, “বিজেপির সক্রিয় কর্মী বাপি। আমাদের নেতা বিজেপি নেতা সুজন মণ্ডল ওই দুষ্কৃতীদের নিয়ে মিটিং করছে। আমরা তার বিরোধিতা করেছি। তাই খুন করে দিয়েছে।” অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। এমনকী দোষীদের ফাঁসির দাবিও তোলা হয়েছে।

তবে পুলিশের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, একটি পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে অশান্তি ও মারামারি শুরু হয়। সেই সংঘর্ষেই গুরুতর আহত হন বাপি প্রামাণিক। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলার প্রকৃত কারণ এবং কারা এই ঘটনায় জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে।বিজেপি কর্মীর মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ এবং পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য—দুই দিক খতিয়ে দেখেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, নাকি স্থানীয় বিবাদ থেকেই এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষ, তদন্ত শেষেই তা স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *