ক্রিকেটের ২২ গজে তাঁর দাদাগিরি দেখেছে গোটা বিশ্ব। এরপর টিভির পর্দায় দীর্ঘদিন ‘দাদাগিরি’র দায়িত্ব সামলেছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে দাদাগিরির ছেড়ে ‘দাদা’ এখন অন্য় চ্য়ানেলে। এবার বিগ বস বাংলার সঞ্চালক সৌরভ। প্রায় এক দশক পর বিগ বাংলার তিন নম্বর সিজন আসতে চলেছে। মিঠুন চক্রবর্তী, জিতের পর এবার সঞ্চালক সৌরভ। মহারাজের সঞ্চালনায় এই শো-টি এক অন্য মাত্রা পেতে চলেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সেপ্টেম্বরে শুরু হবে সফর। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
হিন্দি-সহ একাধিক ভারতীয় ভাষায় সম্প্রচারিত হয় বিগ বস। তবে বিগ বসের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে সলমন খানের নাম। নতুন শুরুর আগে কি সলমনের সঞ্চালনা দেখে কি টিপস নিচ্ছেন সৌরভ? মহারাজের জবাব আপনাকে চমকে দেবে।
ইউএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রিন্স অফ ক্য়ালকাটা বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি এখনও শো-টিতে সলমনের পারফরম্যান্স সেভাবে দেখিনি। এখনও দেরি আছে, অগস্টের শেষের দিকে শুরু হবে। সলমন কীভাবে এটি সঞ্চালনা করেছেন তা আমি অবশ্যই দেখব। আমি যখন ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (এর বাংলা সংস্করণ ‘কে হবে বাংলার কোটিপতি’) সঞ্চালনা করেছিলাম, তখন অমিতাভ বচ্চনের স্টাইল খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করেছিলাম। এবারও আমি দেখব সলমন বিষয়টিকে কীভাবে সামলান। তবে বলা বাহুল্য, প্রত্যেকেরই নিজস্ব একটি অনন্য স্টাইল থাকে। দুজন মানুষ কখনও এক হতে পারে না। দেখা যাক এটি কেমন দাঁড়ায়।’
‘বিগ বস বাংলা’ তার সঞ্চালকের কাছ থেকে ‘দাদাগিরি’র তুলনায় অনেক বেশি কিছু দাবি করে— এমন ধারণার সঙ্গে অবশ্য দ্বিমত পোষণ করেছেন গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বুঝিয়ে বলেন যে, ‘দাদাগিরি’ও সমানভাবে তাত্ক্ষণিক কথোপকথন এবং দর্শকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ওপর নির্ভরশীল ছিল, যেখানে কোনও বাঁধাছাধা স্ক্রিপ্ট থাকত না। সঞ্চালককে নিজের দায়িত্ব শো টেনে নিয়ে যেতে হত।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘দাদাগিরিতেও খুব একটা স্ক্রিপ্ট থাকত না। মূলত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা এবং প্রতিযোগীদের সঙ্গে মেলামেশা করার বিষয় ছিল। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’-র মতো শো মূলত স্ক্রিপ্ট-চালিত হয়— সেখানে এক ঘণ্টার একটি পর্বের জন্য আপনি ঠিক এক ঘণ্টাই শুটিং করেন। দাদাগিরি বেশ আলাদা ছিল। একটি ৯০ মিনিটের পর্ব তৈরি করতে আমাদের প্রায়শই প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে শুটিং করতে হতো। কোনও শো যখন একটি নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছে যায়, তখন স্ক্রিপ্ট আপনাকে কেবল কিছুটা পথই এগিয়ে দিতে পারে।’

৫৩ বছর বয়সী এই প্রাক্তন ক্রিকেটারের মতে, প্রতিটি শো-তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো প্রতিযোগীরা। আসল হিরোরা হলেন অংশগ্রহণকারীরাই, তাঁরাই অনুষ্ঠানকে সফল করে তুলতে পারেন।