রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহেই আচমকা মস্কো সফরে গেলেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রধান জন র্যাটক্লিফ। মঙ্গলবার, ২৫ অগস্ট, কোনও সরকারি ঘোষণা ছাড়াই রাশিয়ার রাজধানীতে পৌঁছন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলির রিপোর্ট অনুযায়ী, রাশিয়ার আধিকারিকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের জন্যই তাঁর এই সফর। তবে কার সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে বা আলোচনায় ঠিক কী বিষয় ছিল, তা এখনও প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
র্যাটক্লিফের এই গোপন সফরের আগে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, র্যাটক্লিফ মস্কোয় থাকার সময়ে রাশিয়ার রাজধানী এবং উত্তর রাশিয়ার কয়েকটি শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা না চালানোর জন্য ইউক্রেনকে অনুরোধ জানিয়েছিল ওয়াশিংটন। এই অনুরোধ সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত কার্যকর রাখার কথা বলা হয়েছিল। কিয়েভকেও জানানো হয়েছিল যে, এই সময়ের মধ্যে একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা রাশিয়া সফর করবেন।
এই ঘটনার মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে একটি মার্কিন সামরিক পরিবহণ বিমান নামে। সেটি ছিল বোয়িং সি-১৭ গ্লোবমাস্টার থ্রি। বিমানটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে জানা যায়, সেটি আমেরিকার মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ থেকে রওনা হয়েছিল এবং পরে লাটভিয়া হয়ে মস্কোয় পৌঁছয়। বিমানটির রাশিয়ায় পৌঁছনোর বিষয়টি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে র্যাটক্লিফের সফরকে ঘিরে রহস্য।
তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই সফর নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি তথ্য দেওয়া হয়নি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে র্যাটক্লিফের বৈঠকের কোনও পরিকল্পনা ছিল না। মার্কিন প্রশাসন এবং সিআইএ-ও সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। ফলে মস্কোয় র্যাটক্লিফ ঠিক কার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কী বার্তা নিয়ে গিয়েছিলেন, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
র্যাটক্লিফের সফর এমন সময়ে হল, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে আমেরিকার কূটনৈতিক উদ্যোগ খুব একটা এগোচ্ছে না। ওয়াশিংটন মস্কো ও কিয়েভকে আলোচনার টেবিলে আনার চেষ্টা করছে। সেই পরিস্থিতিতে সিআইএ প্রধানের মতো একজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার সরাসরি মস্কো সফরকে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। এর আগে ২০২১ সালে তৎকালীন সিআইএ প্রধান উইলিয়াম বার্নস মস্কো গিয়েছিলেন।

র্যাটক্লিফের সফরের সঙ্গে ইরান প্রসঙ্গও জড়িয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি আমেরিকা ইরানের উপর আরও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে নতুন অভিযান শুরু করেছে। রাশিয়া ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হওয়ায় মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনায় ইউক্রেনের পাশাপাশি ইরানও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
সিআইএ ইতিমধ্যেই রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে বন্দি বা আটক ব্যক্তিদের বিনিময়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এর ফলে র্যাটক্লিফের সফরে বন্দি বিনিময়, যুদ্ধবিরতি বা অন্য কোনও গোপন কূটনৈতিক বার্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত মার্কিন বা রুশ কোনও পক্ষই বৈঠকের আসল বিষয় প্রকাশ করেনি।