অবশেষে সিজেপির সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের হাইভোল্টেজ দ্বিতীয় দফার বৈঠক সম্পন্ন হল। দিল্লিতে এদিন দুই পক্ষের সাক্ষাৎ হয়। তবে এই সাক্ষাতে সিজেপির তরফে সাফ জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে তাঁরা অনড়। সিজেপির তরফে বলা হয়েছে, কেন্দ্র আগামিকাল পর্যন্ত সময় চেয়ে নিয়েছে।
সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এদিন সাংবাদিকদের জানান, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার আগামিকাল বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আমরা আশা করি, সরকার শীঘ্রই তাঁকে সরিয়ে দেবে।’ কনস্টিটিউশন ক্লাবে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা বৈঠকের পর সিজেপিজাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানান যে, সরকার তাঁদের দুটি দাবি মেনে নিয়েছে। সিজেপি দাবি জানিয়েছে যে, আত্মহত্যা করা নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে এখনও অনড় আরশোলারা। সিজেপি নেতৃবৃন্দ এবং সরকারের তরফে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংদের মধ্যে বৈঠকের তৃতীয় পর্বটি শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে, মোদী সরকারের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাড্ডা বৈঠকটিকে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ’ বলে অভিহিত করলেও এর বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেননি। সিজেপি র কোনও দাবি সরকার মেনে নিয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। নাড্ডা জানিয়েছেন,’পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের তিনটি প্রধান দাবি ও পাঁচটি সংস্কার প্রস্তাব ছিল। আমরা তাদের জানিয়েছি যে, আগামীকাল বিকেলে আমরা আবারও তাদের সঙ্গে দেখা করব।’
বিক্ষোভ প্রশমিত করতে এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ শান্ত করার লক্ষ্যে সরকারের তৎপরতা জোরদার করার মধ্যেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হল। এই প্রেক্ষাপটে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এমন একটি বিল অনুমোদন করেছে যাতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের জন্য কঠোর শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। গতকাল গভীর রাতে এক সেলফি ভিডিওর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই পদক্ষেপটি নেওয়া হলো। জানা গিয়েছে, মোদী মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত সেই বিল পাশ করে দিয়েছে। এবার সংসদে সেই বিলের অগ্নিপরীক্ষার দিকে তাকিয়ে সব মহল।
