মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেল। এই ঘটনা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্ক্রুটিনির সময় বিজেপির আপত্তির পর রিটার্নিং অফিসার তাঁর মনোনয়ন বাতিল করেন। অভিযোগ, মনোনয়নপত্রে তেলঙ্গানার একটি বিচারাধীন মামলার তথ্য সম্পূর্ণভাবে উল্লেখ করেননি মীনাক্ষী।
নির্বাচন আধিকারিকদের দাবি, নটরাজনকে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করেননি। এর ফলেই তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রদেশের তিনটি রাজ্যসভা আসনই বিজেপির দখলে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে গেছে। ঘটনার প্রতিবাদে কংগ্রেস নেতৃত্ব সরব হয়েছে। দলের অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে বিরোধী প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরের বাইরে কংগ্রেস নেতারা বিক্ষোভ দেখান এবং ঘটনাটিকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে কংগ্রেসের তেলঙ্গানা শাখা বিজেপির অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছে, নটরাজনের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই। তাদের দাবি, একটি ব্যক্তিগত আবেদনের প্রসঙ্গকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘মামলা’ হিসেবে দেখিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। নটরাজন ইতিমধ্যেই আদালতে নিজের জবাব দাখিল করেছেন বলেও কংগ্রেসের দাবি। এদিকে কংগ্রেস বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন শীঘ্রই দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে অভিযোগ শুনতে পারে বলে সূত্রের খবর।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। কংগ্রেস যেখানে এটিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আঘাত বলে দাবি করছে, সেখানে বিজেপি বলছে নির্বাচন আইন অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই সঙ্গে বিজেপির আবার অভিযোগ, কংগ্রেসের অন্দর থেকেই তাদের মীনাক্ষীর হলফনামার ভুলের বিষয়টি জানানো হয়েছিল।