Debraj Chakraborty Arrest Details। ছেলের অন্নপ্রাশনে কাদের নেমন্তন্ন করবে? ঠিক করতে গিয়েই পুলিশের জালে ফাঁসল দেবরাজ

Spread the love

Debraj Chakraborty Arrest Details: মাসখানেক ধরে ‘চোর-পুলিশ’ খেলা খেলছিলেন। বন্ধ করে দিয়েছিলেন নিজের ফোন। উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যে পালিয়ে-পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। ‘লো-প্রোফাইল’ রাখতে সাধারণ বাস বা ট্রেনের জেনারেল কোচে ঘুরে বেড়াতেন। থাকতেন রাস্তার ধারের হোটেলে। যাবতীয় টাকা মেটাতেন নগদে। কিন্তু চলতি সপ্তাহের শুরুতেই একটা ‘ক্লু’ ছেড়ে যান। আর সেই সূত্র ধরেই পুরুলিয়া থকে গ্রেফতার করা হয়েছে বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ তথা রাজারহাট গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীকে। পুলিশ সূত্রের খবর, লুকিয়ে থাকার সময় ছেলের অন্নপ্রাশনের অতিথিদের তালিকা তৈরি করছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডান হাত’। আর সেই রেশ ধরেই ‘তোলাবাজ’ দেবরাজকে ‘তোলার’ পথ প্রশস্ত হয়ে যায় পুলিশের।

ছেলের অন্নপ্রাশনের অতিথি তালিকা করতে গিয়েই ‘ভুল’ করে বসেন দেবরাজ

বিষয়টি নিয়ে পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আত্মগোপন করে থাকার সময় ছেলের অন্নপ্রাশন নিয়ে কথা বলার জন্য এক সহযোগীর ফোন থেকে বাড়িতে কল করেছিলেন দেবরাজ। অন্নপ্রাশনে কাদের কাদের নেমন্তন্ন করা হবে, তা নিয়ে আলোচনার জন্যই ফোন করেছিলেন। তাছাড়াও ফোন করেছিলেন নিজের আইনজীবীকে। ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করা হয় ওই সহযোগীকে। সেই রেশ ধরে মুরির একটি রিসর্টে যান গোয়েন্দারা। সেখানে দু’দিন ছিলেন দেবরাজ। শেষপর্যন্ত পুরুলিয়ায় ধানবাদগামী বাস থেকে গ্রেফতার করা হয়।

দেবরাজের চোর-পুলিশ খেলা

১) জুনের প্রথম সপ্তাহে কালিম্পঙে পালিয়ে গিয়েছিলেন দেবরাজ। সেখানে একটি রিসর্টে ছিলেন।

২) কালিম্পং থেকে শিলিগুড়িতে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

৩) উত্তরবঙ্গ থেকে পালিয়ে পরবর্তী তিন সপ্তাহে কমপক্ষে চারটি রাজ্যে গিয়েছিলেন।

৪) সূত্রের খবর, পুরো সময়টা সাধারণ বাস, ট্রেনের জেনারেল কোচে ঘুরেছিলেন দেবরাজ। রাস্তায় ছোটোখাটো হোটেলে থেকেছিলেন। অনলাইনে কোনও টাকা দিতেন না। সমস্ত টাকা মেটাতেন নগদে।

একের পর এক অভিযোগ দায়ের

আর গ্রেফতারির ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দেবরাজের বিরুদ্ধে তোলাবাজির আরও ১০টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যে প্রোমোটার অভিজিৎ সাহার অভিযোগের ভিত্তিতে দেবরাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রতিটি কাজের জন্য দু’তিন লাখ টাকা দিতে হত। ভোটের আগে সেটা অঙ্কটা বেড়ে ৪০ লাখ টাকায় পৌঁছে গিয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *